হাওড়া: শুক্রবার ভারতের সংসদ দেখেছে বিরোধীদের ঐক্য। আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণে (Women Reservation Amendments Bill) সায় দিল না লোকসভা, মোদির সংবিধান সংশোধনী বিল দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। লোকসভায় পরাজয়ের পর এবার এই মাটির লড়াইতেও পরাস্ত হতে হবে, এই ভাষায় আর সেই পথই দেখাবে বাংলা হুঙ্কার দিয়ে বললেন মমতা। শনিবার হাওড়া নির্বাচনী জনসভা থেকে দিল্লি দখলের বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি জানালেন, BJP পরাস্ত হয়েছে, পতনের শুরু হয়ে গিয়েছে।
১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার লোকসভায় কোনও বিল পাশ করাতে পারল না NDA সরকার। পর্যাপ্ত সাংসদ হাতে না থাকায় আটকে গিয়েছে ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল। শনিবার ভোটের প্রচারে পাঁচলা থেকে এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপি ভাগাভাগির রাজনীতির করে। ওটা মেয়েদের জন্য কোনও বিল নয়। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করার বিষয়ই নয়। দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল। বঙ্গভঙ্গ করতে চেয়েছিল। আমার এখানে নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পেন ছেড়ে দিয়ে ২১ জনকে পাঠিয়েছিলাম। আমরা মোদিকে পরাস্ত করেছি। মোদির পতন শুরু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামীদিনে BJP-কে হটিয়ে দেব। বাংলাকে টার্গেট করলে আমরা দিল্লিকে নিশানা করি। বাংলা জয় করে দিল্লি জয় করব, কবে থেকে বলছি। পতন শুরু হয়ে গিয়েছে।’
আরও পড়ুন:বিজেপিকে হারিয়েছি, মহিলা বিল নিয়ে হাওড়া থেকে তোপ মমতার
মমতার কথায়, ‘দেশকে লুটে সর্বনাশ করা হচ্ছে। বিদেশে গিয়ে সৌদি আরবের নেতাদের সঙ্গে কোলাকুলি করতে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ থাকে না, ওমানেও গোমাংস রফতানি হয়—কিন্তু বাংলায় এসে মাছ-মাংস বন্ধের কথা বলা হচ্ছে। ডিলিমিটেশনের নামে দেশভাগের চেষ্টা হয়েছিল। মহিলাদের আসন দিতে আলাদা বিলের প্রয়োজন নেই—আমাদের দলেই লোকসভায় ৩৬% ও রাজ্যসভায় ৪৬% মহিলা সাংসদ রয়েছেন, যা নজিরবিহীন। বিজেপির এ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ১৯৯৮ সাল থেকেই আমি মহিলা সংরক্ষণের দাবিতে লড়াই করে আসছি। বলেছিলাম পতন হবে, শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছি। নিজেদের সাপোর্ট নেই। সিঙ্গল মেজরিটি নেই। অন্যদের সাপোর্ট নিয়ে লোকসভায় বসে আসে। এবার আপনারা বাংলাতেও ওদের মুখে ঝামা ঘষে দিন।’
ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির বাড়িতে, কংগ্রেসের বাড়িতে, সিপিএমের বাড়িতে তো হানা দেওয়া হয় না। যত দোষ তৃণমূলের। আমি বিশ্বাস করি আমার দলের লোকেরা টাকার কাছে মাথা নত করে না। লড়াই করে। এটা আমাদের বদলার লড়াই। আমি যদি যোদ্ধা হই, মা-বোনেরা আমার সহযোদ্ধা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপির তাঁবেদারি করতে যারা এসেছে, তাদের বলে রাখছি, বিজেপি চিরকাল থাকবে না। মানুষ কিন্তু তখন বদলা নেবে। দিল্লি থেকে বিজেপিকে উৎখাতের সূচনা হোক বাংলার মাটি থেকে।’’মমতার অভিযোগ, ‘স্লো পোলিং’ এবং ‘স্লো কাউন্টিং’ করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথমেই রটিয়ে দেওয়া হবে, তৃণমূল হারছে। তাঁর কথায়, ‘‘ভয় পাবেন না। সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলে সূর্যাস্ত করবে তৃণমূল। শেষে দেখবেন তৃণমূল জিতছে।
