31.7 C
Kolkata

দেবীর কৃপায় মহামারি-মুক্ত হয়েছিল গ্রাম! পুরুলিয়ার এই বাসন্তী পুজোর ইতিহাস জানলে চমকে উঠবেন

Must Read

পুরুলিয়া: বসন্তে দেবীর আরাধনায় মেতে উঠছে বাংলা। বাঙালির মনে এখন বাজছে বাসন্তী পুজোর (Basanti Pujo 2026) জয়ঢাক। পুরুলিয়া (Purulia) জেলার ১ নম্বর ব্লকের নদীয়াড়া গ্রামে দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য (Ancient Tradition) মেনে আজও অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুজো। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্রবিন্দু এই পুজো ঘিরে প্রতি বছরই তৈরি হয় উৎসবের আবহ, আর এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। সপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত চারদিন ধরে চলা এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই গ্রামে ভিড় জমিয়েছেন ভিন জেলা ও ভিন রাজ্য থেকে আগত অসংখ্য পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী।

স্থানীয়দের কথায়, প্রায় দেড়শো বছর আগে বসন্ত মহামারির ভয়াবহ প্রভাবে নদীয়াড়া সহ আশপাশের একাধিক গ্রামে নেমে এসেছিল আতঙ্ক। একের পর এক অঘটন ঘটতে থাকায় গ্রাম ছেড়ে পালাতে শুরু করেছিলেন মানুষজন। সেই সময় বাসন্তী মায়ের স্বপ্নাদেশ এবং এক সন্ন্যাসী বাবার পরামর্শে গ্রামের মাঝখানে শুরু হয় বাসন্তী দেবীর আরাধনা। এর পর থেকেই এলাকায় কমতে থাকে মহামারির প্রকোপ এবং গ্রামবাসীরা রোগমুক্ত হন বলে বিশ্বাস করা হয়। ফিরে আসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর সেই থেকেই শুরু হয় এই পুজোর প্রচলন।

আরও পড়ুন: বাঙালির আদি দুর্গাপুজো! দেখে নিন বাসন্তী পুজোর নির্ঘণ্ট ও দিনক্ষণ

আজও সেই পুরনো আচার-বিধি মেনেই নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে পুজো সম্পন্ন করেন গ্রামবাসীরা। পুজোর চারদিন গ্রামে সম্পূর্ণভাবে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ থাকে। পাশাপাশি আয়োজিত হয় যাত্রাপালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তিমূলক নানা পরিবেশনা, যা গ্রামজীবনের এক অনন্য সাংস্কৃতিক চিত্র তুলে ধরে। গ্রামবাসীদের দৃঢ় বিশ্বাস, শুদ্ধ মনে বাসন্তী মায়ের আরাধনা করলে সকল মনোকামনা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাসেই প্রতিবছর হাজার হাজার ভক্ত এই পুজোয় অংশ নিতে নদীয়াড়া গ্রামে ভিড় জমান। চারদিন ধরে কার্যত জনপ্লাবনের চেহারা নেয় গোটা গ্রাম। এবছরও একইভাবে ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং উৎসবের আবহে মেতে উঠেছেন নদীয়াড়া সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

৭২ ঘণ্টা পর শেষ উদ্ধারকাজ, তারাতলার ধ্বংসস্তূপে পুলিশের কড়া পাহারা

ওয়েব ডেস্ক : তারাতলার (Taratala) নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর শেষ হল উদ্ধার অভিযান। পুলিশ...

More Articles Like This