ওয়েব ডেস্ক : ল্যাবকর্মীর মৃত্যু ঘিরে প্লেগ আতঙ্ক ছড়াল রাশিয়ার (Russia) সাইবেরিয়ায়। ইরকুটস্ক অঞ্চলে প্লেগে (Plague) এক মহিলা ল্যাবকর্মীর মৃত্যুর পর প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মৃত মহিলা ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভেন্টিলেটরে রেখেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই সিডেনভও ওই মহিলার প্লেগে মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।
মৃত ল্যাবকর্মীর বয়স ২৭ বা ২৮ বছর বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জানিয়েছিলেন, নমুনা সংগ্রহের সময় দুর্ঘটনাবশত জীবিত ব্যাকটেরিয়া থাকা একটি টেস্ট টিউব ভেঙে যায়। তবে এই তথ্য সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ইরকুটস্ক প্রশাসন এখনও রোগটিকে ‘বিশেষ বিপজ্জনক সংক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম আবার সংক্রমণটি নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে বলে দাবি করেছে।
প্লেগের (Plague) জীবাণুর নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং তাদের শরীরে থাকা পোকামাকড়ের মাধ্যমে এই জীবাণু ছড়ায়। সংক্রমণের পর এক থেকে সাত দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বুবোনিক প্লেগ সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলেও ফুসফুসে সংক্রমণ হলে নিউমোনিক প্লেগ হতে পারে।
প্লেগের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৮৫৫ সালে চিনের ইউনান থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় প্লেগ মহামারী প্রায় ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশে প্লেগ স্থানীয় ভাবে দেখা যায়। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে রিপোর্ট হওয়া অধিকাংশ প্লেগের ঘটনা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং মাদাগাস্কারে নথিভুক্ত হয়েছে। এবার রাশিয়ার ইরকুটস্কে ল্যাবকর্মীর মৃত্যুর পর প্রায় ২০০ জনকে নজরদারিতে রাখায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
