দুর্ভিক্ষের রাতে পুকুরঘাটে বৃদ্ধার দেখা! সেই ‘আদেশে’ শুরু ঘোষবাড়ির ২৫০ বছরের দুর্গাপুজো

Must Read

কলকাতা: ঘরে খাবার নেই। দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় দিনের পর দিন অনাহারে পরিবার। ছোট ছোট সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন রামরাম ঘোষ। শেষ পর্যন্ত এক রাতে দড়ি ও কলসি নিয়ে পুকুরের দিকে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই রাতেই নাকি বদলে যায় তাঁর পরিবারের ভাগ্য। পুকুরঘাটে এক বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা হয় রামরামের। তাঁর পরামর্শেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই পুজোই আজ প্রায় আড়াইশো বছরের ঐতিহ্য।

পরিবারের প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, রামরামকে ওই বৃদ্ধা দুর্গাপুজো করার পরামর্শ দেন। বাড়ি ফিরে রাতে স্বপ্নে ফের সেই বৃদ্ধার দেখা পান তিনি। স্বপ্নাদেশে বলা হয়, ধানের গোলার নীচে দশ ঘড়া মোহর রয়েছে। সেই সম্পদ দিয়েই পুজো শুরু করার নির্দেশ পান রামরাম।

পর দিন সত্যিই মোহর পাওয়ার পর শুরু হয় পুজোর আয়োজন। পরিবারের বিশ্বাস, এরপরই গ্রামের দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতিও কাটতে শুরু করে। কিন্তু প্রতি বছর পুজো চালানোর খরচ কী ভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন রামরাম। ফের স্বপ্নাদেশ আসে। তাঁকে বর্ধমান রাজার কাছে যেতে বলা হয়।

কথিত আছে, ১০০১টি মোহরের বিনিময়ে বর্ধমানের রাজা রামরামকে প্রায় ২০০০ বিঘা জমি দেন। পরবর্তী সময়ে সেই সম্পত্তি ও ব্যবসার মাধ্যমে ঘোষ পরিবারের আর্থিক সমৃদ্ধি বাড়ে। আর ঘরে থেকে যায় দেবীর পুজো।

প্রায় ২৫০ বছর ধরে সেই ঐতিহ্য আজও চলছে। জন্মাষ্টমীর কাঠামো পুজো দিয়ে উৎসবের সূচনা। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য নবপত্রিকার বিশেষ আচার এবং দুর্গার পাশাপাশি মনসাদেবীর আরাধনা।

পরিবারের রীতিতে লক্ষ্মীর প্রচলিত বাহন পেঁচার প্রতিরূপ নেই। ধান্যলক্ষ্মীকেই মহালক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে নির্দিষ্ট বলির প্রথাও রয়েছে। দেবীর ভোগেও রয়েছে বিশেষত্ব—থোড়, পলতা পাতার বড়া, কচু ও পুঁইশাকের মতো ঘরোয়া খাবার নিবেদন করা হয়।

দশমীর সন্ধ্যায় বরণ শেষে দোলায় করে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কৌশিকী খালে। সেখানেই বিসর্জনের পর শেষ হয় পুজো। ফের অপেক্ষা শুরু হয় পরের বছরের জন্য।

Latest News

প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর

ওয়েব ডেস্ক : প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar)। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে...

More Articles Like This