ওয়েব ডেস্ক : ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। তাঁর এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
শুক্রবারের বৈঠকে বিশেষ নজরে থাকতে পারে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ব্রহ্মোসের আধুনিকীকরণ নিয়ে নয়াদিল্লি ও মস্কোর মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ভারতের জন্য বাকি এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও বজায় রেখেছে। প্রস্তাবিত সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বেসামরিক পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। ভারতে (India) নতুন পরমাণু চুল্লি তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশ আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছেন পেসকভ। ফলে পুতিনের সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি জ্বালানি ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রেও নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মোদি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেছিলেন, ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসান’-এর দিকে এগোতে হবে। দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়াই মানবতার কামনা বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
আরও খবর : ব্রিকসে পুতিন-জিনপিং, নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে দিল্লিকে
পুতিনের সফরের মূল পর্ব অবশ্য ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। ভারত এবারের সম্মেলনের আয়োজক এবং বর্তমান চেয়ার। সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উচ্চপ্রযুক্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।
ব্রিকসের মঞ্চে পুতিনের একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠকও হওয়ার কথা। দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া এবং মিশরের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে। অন্যদিকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদা পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত না থাকলেও শনিবার সন্ধ্যায় শি ও মোদির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে ইতিমধ্যেই দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে মূল সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। দিল্লিতে পুতিনের উপস্থিতি তাই শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
