ওয়েব ডেস্ক : রাতের অন্ধকারে মোটরবাইকে করে একটি ভারী বস্তা নিয়ে যাচ্ছিল এক যুবক। রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশের (Police) সন্দেহ হওয়ায় বাইক থামায়। এরপর বস্তার ভিতর থেকে রক্ত বেরোতে দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান পুলিশকর্মীরা। বস্তা খুলতেই সামনে আসে এক তরুণীর দেহ। ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরুলিয়ার (Purulia) বাঘমুণ্ডির এই ঘটনায় অমিতকুমার মাহাতো নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার গভীর রাতে। রাত ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ বাঘমুণ্ডির রাস্তায় পুলিশের নজরে পড়ে ওই মোটরবাইক। বাইকে থাকা বড় বস্তাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় পুলিশের। তার উপর বাইকে রক্তের দাগ এবং বস্তা থেকে রক্ত ঝরতে দেখে যুবককে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। একই কোচিংয়ে পড়াশোনা করার সূত্রে তাঁদের পরিচয় এবং পরে সম্পর্ক তৈরি হয়।
আরও খবর : দক্ষিণবঙ্গে কমছে বৃষ্টির দাপট, তবে কি এবার বিদায়ের পথে বর্ষা? কী বলছে হাওয়া অফিস
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই তরুণী অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে বলে সন্দেহ করছিল অমিত। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে অশান্তি চলছিল। শনিবার তরুণী অমিতের মেসে গেলে সেখানে দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে তরুণীর গলায় আঘাত করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
জানা গিয়েছে, অমিতের বাড়ি বাঘমুণ্ডি থানার হুড়ুমদা গ্রামে। চাকরির প্রস্তুতি এবং পড়াশোনার জন্য সে পুরুলিয়া শহরের কাছাকাছি টামনা থানা এলাকার একটি মেসে থাকছিল। অভিযোগ, সেখানেই তরুণীকে খুনের পর তাঁর দেহ বস্তায় ভরে মোটরবাইকে করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। পুলিশের তল্লাশিতে মাঝরাস্তাতেই ধরা পড়ে যান অভিযুক্ত। তরুণীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। খুনের নেপথ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনই মূল কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
