ওয়েব ডেস্ক: দিনের শেষে দেখা মিলল চেনা ছবির। প্রথম দফার ভোটের (Bengal First Phase Election 2026) শেষ বেলায় অশান্তি হল কোথাও কোথাও, শান্তিপূর্ণই ভোট কাটল, আবার ধরা পড়ল রাজনৈতিক সৌজন্যচিত্রও।হিংসা-মুক্ত ভোট। এই ছিল রাজ্যবাসীর দাবি। নির্বাচন কমিশনও এবার ভোটে হিংসা রুখতে প্রথম থেকে তৎপরতা শুরু করে।প্রথম দফার ভোট মিটেছে কার্যত নির্বিঘ্নে। খুশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সিইওকে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ ভোট।’ভোট মিটতে না মিটতেই ভোটের হার নিয়ে প্রত্যয়ী রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। হিংসা-অশান্তি কি আটকানো গেল?
আজ রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। এদিন ১৬ জেলার ১৫২ আসনে নির্বাচন হচ্ছে। মূলত উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভোট রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট হচ্ছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটল নির্বাচন। রাজ্যে এবার রেকর্ড ভোট জমা পড়েছে বলে ইতিমধ্যেই খবর এসেছে। সকাল থেকেই ট্রেন্ড জানান দিচ্ছিল, অন্যবারের তুলনায় ভোট বেশি জমা পড়েছে। বিকেল ৫টার অবধি প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট জমা পড়েছে।
ভোটদানের নিরিখে বাংলা যে নতুন রেকর্ড করতে চলছে সেই ইঙ্গিত মিলছিল সকাল থেকেই। ২০১১ সালের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেল ২০২৬ সালের ভোট। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮২.৬৬ শতাংশ, ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮১.৫৬ শতাংশ। সেখানে এবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ভোটদানের হার ছুঁয়ে ফেলল ৯০ শতাংশের গণ্ডি। এর মধ্যে শুধু কোচবিহারেই বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২.০৭ শতাংশ। আলিপুরদুয়ারে ৮৮.৭৪ শতাংশ। জলপাইগুড়িতে ৯১.২ শতাংশ। কালিম্পংয়ে ভোট পড়েছে ৮১.৯৮ শতাংশ। দার্জিলিংয়ে ৮৬.৪৯ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরে ৮৯.৭৪ শতাংশ। দেশে ভোটদানের হারের নিরিখে সব রাজ্যের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছিল অসম। চলতি বিধানসভা ভোটে সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ। ভোটদানের রেকর্ডে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত শীর্ষে ছিল পুদুচেরি। অসম রাজ্যকে পিছনে ফেলে সেই নজির তারা গড়েছিল চলতি বিধানসভা নির্বাচনেই।সেই দুই রাজ্যকে পিছনে ফেলল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট।
আরও পড়ুন: শেষ বেলায় চেনা ছবি ধরা পড়ল, বীরভূমের খয়রাশোলে উত্তেজনা
এদিন বিজেপি নেতাকে মার তৃণমূলের। ভোটের আগের রাতে শীতলকুচিতে বিজেপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের ২৩৭ নম্বর ও ২৩৮ নম্বর বুথের কিছুটা দূরে রাস্তা জ্যামিং করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আলিপুরদুয়ারের ১২/১৭৬ নম্বর বুথের ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলালের বিরুদ্ধে।সকাল থেকে একটু-আধটু গণ্ডগোল ছাড়া, সেঅর্থে হিংসার ঘটনা সামনে আসেনি। নির্বাচন কমিশনের একাধিক পদক্ষেপের পর ভোট নির্বিঘ্নেই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু, সময় যত গড়াচ্ছে তত একের পর এক হিংসার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছে।চারটে নাগাদ খবর এল খয়রাশোলের অশান্তির খবর।ইভিএমে তৃণমূলের প্রার্থীর জন্য নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিলে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে ভোট পড়ছে। এই অভিযোগে ভোট বন্ধ করে বিক্ষোভ বীরভূমে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মারধরের অভিযোগ। গাড়ি ভাঙচুর।
এবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের স্বয়ং প্রার্থীকেই মারধরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।শিলিগুড়ি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৪ নম্বর ও ১৬৫ নম্বর বুথে তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের বুথের ভিতরে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তুললেন এখানকার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব।শিলিগুড়ি কেন্দ্রের ভারতনগরে ফলস ভোটের অভিযোগ উঠল। ভোটের আগের রাতে নওদার তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মুমতাজকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠল হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিরুদ্ধে। মালদার মালতিপুরেও ভুয়ো ভোট! পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ ভোটারের। বুথে গেলে প্রিসাইডিং অফিসার জানান, ভোট পড়ে গিয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট পড়েছে, জানান প্রিসাইডিং অফিসার, দাবি ভোটারের।
