কলকাতা: রেস্তরাঁর ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা মাছ-মাংসে পচন ও ছত্রাক! এমনই অভিযোগ তুলে লেকটাউনের একাধিক রেস্তরাঁয় অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর (Food Safety Raid)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাছ-মাংসের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ মশলা, ভিনিগার এবং খোলা অবস্থায় রাখা আইসক্রিমও পাওয়া গিয়েছে বলে দফতর সূত্রে দাবি। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট একটি রেস্তরাঁ দু’দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার লেকটাউনের তিনটি রেস্তরাঁয় অভিযান চালান বিধাননগর পুরনিগমের খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। এর মধ্যে ‘চাইনিজ কুইজিন’ এবং ‘বেঙ্গল ধাবা’ রেস্তরাঁ দু’টির মালিকানা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ছেলের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের অভিযোগ, ওই দুই রেস্তরাঁর ফ্রিজে প্রায় ৬০ কেজি মাছ ও মাংস মজুত ছিল। তার বেশ কিছু অংশে পচন ধরেছিল এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে কিছু খাবারের উপর ছত্রাকের আস্তরণও দেখা যায় বলে দাবি আধিকারিকদের।
শুধু মাছ-মাংস নয়, অভিযানে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া মশলা ও ভিনিগারও পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ আইসক্রিম খোলা অবস্থায় রাখা ছিল বলেও অভিযোগ। অভিযানে বাজেয়াপ্ত হওয়া খাদ্যসামগ্রী নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের পর ‘চাইনিজ কুইজিন’ রেস্তরাঁটি আগামী দু’দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেস্তরাঁ ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে খাদ্যের মান নিয়ে অভিযোগের পর সম্প্রতি নজরদারি বাড়িয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। বাসি বা নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করা হয়েছে।
লেকটাউনের এই দুই রেস্তরাঁয় পাওয়া খাবারগুলি আদৌ গ্রাহকদের পরিবেশন করা হত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযান আগামী দিনেও চলবে।
