ওয়েব ডেস্ক: বন্ধ্যাত্ব (infertility) পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন এক ২৬ বছরের যুবক। মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা যা দেখলেন তাতে তাঁদের মাথায় হাত। ওই পুরুষের শরীরের রয়েছে একটা আস্ত জরায়ু (Uterus)। যে চিকিৎসক ওই যুবকের পরীক্ষা করেছেন সেই ডাঃ সুশীল খারবান্দা জানিয়েছেন, বাইরে থেকে ওই যুবককে দেখে পুরুষই মনে হয়েছে এবং তিনি এ যাবত পুরুষ হিসেবেই জীবনযাপন করেছেন।
দিল্লির (Delhi) রাজৌরি গার্ডেনে অবস্থিত আরজি হাসপাতালের প্রধান ইউরোলজিস্ট ডাঃ খারবান্দা জানান, ওই যুবক তাঁর কাছে এসেছিলেন বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করাতে। কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু হওয়ার মতো কোনও উপসর্গ তাঁরা প্রথমে টের পাননি। চিকিৎসকের কথায়, “উনি আমার কাছে বন্ধ্যাত্বের কারণে এসেছিলেন। এছাড়া সবকিছু ঠিকঠাকই আছে, তাঁর সমস্ত বৈশিষ্ট্যই পুরুষের মতোই।”
আরও পড়ুন: ব্রিকসের আগে বড় উদ্যোগ, দেশে রুশ বিমান তৈরির পথে ভারত!
শারীরিক পরীক্ষা করার সময়েই প্রথম অসঙ্গতি চোখে পড়ে। খারবান্দা দেখেন, ওই যুবকের মূত্রথলিতে কোনও শুক্রাশয় বা অণ্ডকোষ নেই। এবং তাঁর বীর্যে কোনও শুক্রাণু নেই। বীর্যে শুক্রাণুর অনুপস্থিতিকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয়, অ্যাজুস্পার্মিয়া। এরপর আরও পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। এবার আরও অবাক হন তাঁরা।
প্রথমে ক্রোমোজোম পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই যুবকের পুরুষদের মতোই এক্স-ওয়াই ক্রোমোজোম। কিন্তু আল্ট্রাসাউন্ড এবং এমআরআই করে চিকিৎসকদের চক্ষু চড়কগাছ। যুবকের শরীরে একটা প্রমাণ সাইজের জরায়ু রয়েছে। স্ক্যান করে এও দেখা যায়, তাঁর শুক্রাশয় দুটি শরীরের ভিতরে রয়েছে, ঠিক যেমনভাবে নারী শরীরে ডিম্বাশয় থাকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই যুবকের শুক্রাণু উৎপাদন না হওয়ার কারণ শুক্রাশয় দুটি শরীরের ভিতরে অবস্থান করছে। শুক্রাশয় শরীরের বাইরে থাকে। শরীরের অভ্যন্তরে যে তাপমাত্রা থাকে সেখানে শুক্রাশয় থাকলে শুক্রাণু উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই কারণেই ওই যুবকের বন্ধ্যাত্ব। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
