নয়াদিল্লি: বিশ্ব যখন যুদ্ধ, রাজনীতি এবং অর্থনীতির খবরে ব্যস্ত, তখন নীরবে এক উচ্চাভিলাষী মহাকাশ অভিযানে এগিয়ে চলেছে চিন। পৃথিবীর তথাকথিত ‘দ্বিতীয় উপগ্রহ’ বা Quasi-Moon Kamo’oalewa-র কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে চিনের Tianwen-2 মহাকাশযান। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওই রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর বুকে অবতরণ করে নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করবে রোবটচালিত এই অভিযান।
Kamo’oalewa (469219) পৃথিবীর নিকটবর্তী একটি ছোট গ্রহাণু, যার আকার প্রায় ১৩০ থেকে ৩৩০ ফুট। এটি সরাসরি পৃথিবীর উপগ্রহ না হলেও পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে এমনভাবে চলাচল করে যে একে অনেক বিজ্ঞানী ‘কোয়াসি-মুন’ বা ‘অর্ধচন্দ্র’ বলে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হয়, বহু লক্ষ বছর আগে চাঁদের পৃষ্ঠে ভয়াবহ উল্কাপাতের ফলে ছিটকে যাওয়া কোনও অংশই আজকের Kamo’oalewa।
আরও পড়ুন: অবশেষে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করল ইরান-আমেরিকা
নমুনা সংগ্রহে ব্যবহার করা হবে আধুনিক Touch and Go, Hover এবং Anchor and Attach প্রযুক্তি। রোবোটিক বাহুর সাহায্যে ধুলো, শিলা ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলি বিশেষ ক্যাপসুলে সংরক্ষণ করা হবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, Kamo’oalewa-র উপাদান বিশ্লেষণ করলে চাঁদের উৎপত্তি, মহাজাগতিক সংঘর্ষ এবং সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। বিশেষ করে যদি প্রমাণ হয় যে এটি সত্যিই চাঁদের ভাঙা অংশ, তাহলে চন্দ্র গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই অভিযান শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য নয়, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চিনের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূর মহাকাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবতরণ, নমুনা সংগ্রহ এবং সেগুলি নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহ ও অন্যান্য গ্রহাণু অভিযানে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নমুনা সংগ্রহের পর Tianwen-2 পৃথিবীর দিকে রওনা দেবে। ২০২৭ সালের শেষ দিকে নমুনাবাহী ক্যাপসুল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে মঙ্গোলিয়ার নির্দিষ্ট এলাকায় অবতরণ করবে। এরপর গবেষণাগারে সেই নমুনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হবে।
এরপরও মিশন শেষ হবে না। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে Tianwen-2 ফের মহাশূন্যে যাত্রা করবে। লক্ষ্য, ২০৩৫ সালে 311P ধূমকেতুর কাছে পৌঁছে আরও এক বৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালনা করা।
