নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে দেশের বাজারেও। জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চিনির রপ্তানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকার। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের জেরে বিশ্ববাজারে চিনির দাম (Suger Price Hike) বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিনি রপ্তানিকারক দেশ ভারত। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ সালে বিশ্ব চিনির বাজারে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩.৪ শতাংশ। ২০২১-২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ শতাংশে। পরবর্তীকালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে সেই হার। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই এবার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র।
আরও পড়ুন: আমুলের পর এবার মাদার ডেয়ারি, বাড়ল দুধের দাম
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁচা, সাদা এবং পরিশোধিত সব ধরনের চিনির রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি মরশুমে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে আখ উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের প্রধান আখ উৎপাদক রাজ্য মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাবও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে আখ উৎপাদন কমে গেলে চিনি উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ঘরোয়া বাজারে।
কেন্দ্রের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে রপ্তানি চালু থাকলে দেশে চিনির ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং দাম আরও বাড়তে পারে। তাই আগেভাগেই সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উপর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, চিনি রপ্তানি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আসে দেশের কোষাগারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি আমদানির চাপ বাড়ায় এমনিতেই বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই চিনির রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হল অর্থনৈতিক মহলে।
