কলকাতা: কুম্ভের ভিড়ে দিল্লি স্টেশনে দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে গঙ্গাসাগরের তীর্থযাত্রীদের জন্য শিয়ালদহে (Sealdah Railway) এবার থেকে পৃথক দু’টি প্ল্যাটফর্ম। কুম্ভমেলা চলাকালীন দিল্লি রেল স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলার জন্য এবার পৃথক ব্যবস্থা শিয়ালদহ ডিভিশন (Sealdah Division) তথা পূর্ব রেলের। এবার শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার যে কোনও প্লাটফর্ম থেকে তীর্থযাত্রীরা গঙ্গাসাগরগামী মেলা (Gangasagar Mela) ট্রেনে উঠতে পারবেন না। তাঁদের জন্য দক্ষিণ শাখার ১৫ এবং ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল। এমনকি, তীর্থযাত্রীরা শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যেদিক থেকে প্রবেশ করবেন, এদিক থেকে বের হতে পারবেন না। এক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করে গেট ভাগ করে দেওয়া হল। যাতে কোনওভাবে বিশৃঙ্খলা বা পদপিষ্ট বা অন্যান্য কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত আরও মসৃণ করতে ২০২৬ সালে বিশেষ ট্রেন পরিষেবা বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ হারে (Record special local Train)।
শুক্রবার শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা সাংবাদিক বৈঠকে জানান, গঙ্গাসাগর মেলার জন্য এবার পৃথক ব্যবস্থা শিয়ালদহ ডিভিশন (Sealdah Division) তথা পূর্ব রেলের। বৈঠকে তিনি বলেন, দক্ষিণ শাখাও প্ল্যাটফর্মের প্রবেশের ডান দিক থেকে অর্থাৎ মেট্রো স্টেশনের পাশ থেকে একটি অংশ খুলে দেওয়া হচ্ছে। সে দিক থেকে হোল্ডিং এরিয়া থাকছে। সেখানে শৌচাগার, অনুসন্ধান কেন্দ্র, টিকিট পরীক্ষক সহ একাধিক পরিষেবার রাখা হচ্ছে। ওই গেট দিয়েই তীর্থযাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ করতে হবে।গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার সময় ট্রেন থেকে নেমে বর্তমানে যেখান থেকে যাত্রীরা বের হন, এদিক থেকেই তীর্থযাত্রীদের বের হতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে আলাদা করিডোর থাকবে তাঁদের জন্য।একইসঙ্গে, ১৬ এবং ১৭ নম্বর প্ল্যাটফর্ম যেহেতু একইসঙ্গে, তাই তীর্থযাত্রী এবং সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জন্য প্ল্যাটফর্মের মধ্যিখান থেকে একটি লোহার গার্ডওয়াল বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন : ২৬-এর ভোটে বারুইপুরের সভা থেকে টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক
রেল সূত্রের খবর, গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষ্যে রেকর্ড সংখ্যক স্পেশ্যাল ইএমইউ লোকাল ট্রেন চালানো হবে। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে বিশেষ পরিষেবা। ২০২৫ সালে যেখানে অতিরিক্ত ট্রেন চলেছিল ৭২টি, সেই সংখ্যা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২৬টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৮টি অতিরিক্ত ট্রেন। গত বছরের গড় ১২টির তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে ডাউন লাইনে (নামখানা / কাকদ্বীপ → শিয়ালদহ / কলকাতা) চলবে ৫৬টি বিশেষ ট্রেন এবং আপ লাইনে (শিয়ালদহ / কলকাতা → নামখানা / কাকদ্বীপ) চলবে ৭০টি বিশেষ ট্রেন।
এছাড়াও গতবছরের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আরপিএফ জওয়ান সংখ্যা।গতবার ২০০ থেকে ২২০ জন জওয়ান থাকলেও এবার শিয়ালদহ স্টেশন এবং কাকদ্বীপ স্টেশন সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থাকছে ৪০০ জওয়ান।এছাড়াও, গঙ্গাসাগরের জন্য থাকছে বিশেষ ট্রেন পরিষেবা। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ডাউন লাইনে ৫৬টি এবং আপ লাইনে ৭০টি ট্রেন দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আপলাইনে দৈনিক গড়ে ১০টি ট্রেন এবং ডাউনলাইনে গড়ে ৮টি ট্রেন চলবে। এছাড়াও, বিপর্যয় মোকাবিলা, জিআরপি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকিট পরীক্ষক স্টেশন গুলিতে থাকবে বলেও এদিন ডিআরএম জানিয়েছেন।