ওয়েব ডেস্ক : গত ৭২ ঘণ্টায় যা ঘটেছে, তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কোনও মূল্যে জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে চাইছেন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস।
সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ের থেকেও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে মোদি সরকার। দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের। তাঁদের কথায়, দেশের সরকার নিজের নাগরিকদের সঙ্গেই যুদ্ধে নেমেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সামাল দিতে বাংলা, ছত্তীসগঢ় ও কাশ্মীর থেকে বাহিনী আনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন সিজেপি (CJP) নেতারা। তাঁদের দাবি, বিমান থেকে জোর করে তাঁদের নামিয়ে আটক করা হয়। সেই সময় কোনও আইনি নথি দেখানো হয়নি। তাঁদের সঙ্গে মাফিয়ার মতো আচরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এমনকি, মহিলা পুলিশকর্মীকে দিয়ে তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে দাবি। আটক করার পর ফোন নেওয়ার কোনও মেমো দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।
আরও খবর : দিল্লিতে ছন্দে ফিরছে রেল পরিষেবা, বাতিল ট্রেনের টিকিট নিয়ে বড় ঘোষণা রেলের
সিজেপি নেতাদের আরও দাবি, আটকের পর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলা কিংবা আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, ফোনগুলি হ্যাক বা ক্লোন করা হয়ে থাকতে পারে। বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে জুতো পরে এবং মাথায় কাপড় না দিয়েই পুলিশ জোর করে ঢুকে বিক্ষোভকারীদের তুলে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
এই সমস্ত পদক্ষেপের পিছনে জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি সিজেপি নেতাদের। তাঁদের আরও অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) একাংশও জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণ চাইছে। বারাণসীতে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পিছিয়ে পড়া এবং পরে ব্যবধান কমিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে জ্ঞানেশ কুমারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন তাঁরা। সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রতারণা করেছেন জ্ঞানেশ কুমার।
