ডুরান্ড লাইনে তীব্র সংঘর্ষ, মিসাইল–গোলাবর্ষণে উত্তপ্ত পাক-আফগান সীমান্ত

0
124

ওয়েব ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) ও আফগানিস্তানের (Afghanistan) মধ্যে ডুরান্ড লাইন (Durand Line) ঘিরে তীব্র সামরিক সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। সীমান্ত জুড়ে রাতভর গোলাগুলি বর্ষণ ও মিসাইল হামলার খবর মিলেছে। দুই দেশের পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে, যদিও কোনও দাবিই যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। তাদের আরও দাবি, ডুরান্ড লাইনের কাছে একাধিক পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট ও দুটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে। তালিবান সূত্রে জানানো হয়েছে, পাকতিকা, খোস্ত, নানঘারহর ও কুনার সেক্টরে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। একটি পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই লড়াইয়ে তালিবানের আট যোদ্ধার মৃত্যু ও ১১ জন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভাঁড়ার শূন্য, দেউলিয়া মালিক! বন্ধের মুখে ভারত শাসন করা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে। তাঁর দাবি, “পাকিস্তানি বাহিনী একাধিক জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত বড়সড় হতাহতের খবর নেই।” আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে তাদের অভিযান শুরু হয়। সম্প্রতি আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, তার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি কাবুলের।

অন্যদিকে পাকিস্তান আফগানিস্তানের দাবি খারিজ করেছে। ইসলামাবাদের বক্তব্য, সংঘর্ষে মাত্র দুই পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং তিনজন আহত হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, ৩৬ জন আফগান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দিকেই বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার ভোরেও কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশের তরফেই কড়া অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

রবিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এয়ারস্ট্রাইক চালায়। ইসলামাবাদের দাবি, ওই অভিযানে অন্তত ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে কাবুল এই দাবি খারিজ করে জানায়, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অভিযোগ, পূর্বাঞ্চলের একটি স্কুল ও আবাসিক এলাকায় বোমাবর্ষণে “ডজন ডজন নিরীহ মানুষ” হতাহত হয়েছেন। সূত্রের খবর, নানঘরহারের বেহসুদ জেলায় একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের ২৩ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দ) ও আইএস-খোরাসানের শিবির লক্ষ্য করে “নির্ভুল” হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলাগুলির নেপথ্যে আফগানিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি ইসলামাবাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here