কলকাতা: সোনারপুরে নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ক্রুদ্ধ জনতার কাছে রীতিমতো মার থেকে হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sonarpur Abhishek Banerjee)। প্রথমে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হতে থাকে। শুধু ডিম নয়, জুতোও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সেইসঙ্গে চলতে থাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ। অভিযোগ, জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেকের।নিজের ভাঙা চশমা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেন, “মেরে ফেলতে চেয়েছিল আমাকে।এই ঘটনা রুখতে ব্যর্থতার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানার পুলিশ-প্রশাসনকেও তীব্র নিশানা করেছেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা নিহত কর্মীর বাড়িতে ‘বন্দি’ থাকার পর, অভিষেককে বের করে আনল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সেই বাড়িতে বসেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে অভিষেক দাবি করেন, তাঁর এই কর্মসূচির কথা আগেভাগেই জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশের দেখা মেলেনি। কার্যত তাঁকে ইচ্ছাকৃত ভাবে এই হিংসাত্মক বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই পরিস্থিতিতে হামলাকারীরা বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে দাবি করে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বলেও জানান।অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুূনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন: এরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়…আর কী বললেন অভিষেক?
পুলিশ বাহিনী কার্যত ঘিরে রেখে বের করছে অভিষেক। ২ কিলোমিটার রাস্তায় উপচে পড়েছে উন্মত্ত জনতা। রাস্তার দু’ধারে মহিলাদের ভিড়। অভিষেককে দেখে এখনও চলছে স্লোগান। এলাকা থেকে বের করার চেষ্টা করছে বাহিনী। হামলার ঘটনার পর সোনারপুরের সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর দাবি, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দূর-দূরান্তের কোনও যোগ নেই। অভিষেকের বক্তব্য, আমজনতা তাঁকে কোনও রকম বাধা দেননি, বরং তাঁরা আন্তরিকভাবেই স্বাগত জানিয়েছিলেন। স্থানীয়দের কেউ এই হামলায় জড়িত নন।রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে আগে থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের লোক ঢুকিয়ে রেখেছিল বিজেপি। সম্পূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক বহিরাগতদের এনেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
