Forbidden

You don't have permission to access th1s resource.

Fourth Pillar | এসআইআর-এ নাম কাটা, লাইনে দাঁড়ানো, হয়রানি, আসুন জেনে নিই কারা দায়ী? - KolkataTV
31.1 C
Kolkata

Fourth Pillar | এসআইআর-এ নাম কাটা, লাইনে দাঁড়ানো, হয়রানি, আসুন জেনে নিই কারা দায়ী?

Must Read

সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) থেকে বিজেপির বড় মেজ সেজ নেতারা জনসভায় বলে বেড়াচ্ছেন এসআইআর (Bengal SIR)এর নাম কাটা গেছে রাজ্য সরকারের জন্য, মানুষের এই চরম ভোগান্তি নাকি ওই রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের জন্য, রাজ্য সরকারের নির্দেশেই তারা এই কাজ করেছে। হ্যাঁ এসআইআর নিয়ে আপাতত এক্কেবারে কোণঠাসা বিজেপি এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছে। আপনি বলতেই পারেন যে, কেন এত মুসলমানের নাম বাদ গিয়েছে, বিজেপির তো খুসি হবারই কথা। তাহলে এই এসআইআর নিয়ে তাদের মধ্যে এত কনফিউশন কেন? এটা প্রায় সেই অসমের ইতিহাস ফিরে এসেছে, হ্যাঁ, বিজেপি এসেই অসমে এন আর সি হোগা, বলে নামিয়ে দিয়েছিল স্টেট মেশিনারিকে, সারা রাজ্য জুড়ে এনআরসি হল, এক্কেবারে ফাইনাল গিনতি বিধানসভায় রাখার আগেই সেই গিনতি বেরিয়ে এলো মিডিয়াতে, কেউ কেউ বলে ইচ্ছে করেই সেই তথ্য মিডিয়াকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ঘুসপেটিয়াদের ধরোর আড়ালে বিজেপির মুসলমান খেদাও কর্মসূচির তথ্য সামনে এলো, ১২২০ কোটি টাকা খরচ করে ১৯ লক্ষ ঘুসপেটিয়া কে চিহ্নিত করা হলো, এবং দেখা গেল মাত্র ৫/৬ লক্ষ মানুষ মুসলমান, বাকি ১৩/১৪ লক্ষ মানুষ মুসলমান। ব্যস, তারপর থেকে সেই এন আর সির রিপোর্ট আর সামনে আসেনি, এমনকি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) নিজেই সেই তালিকার বহু দোষ ত্রুটির কথা বলেছেন। এবং মজার কথা হল সেই গণনা চলেছিল ৫ বছর ধরে। এদিকে আমাদের শুভেন্দু অধিকারি চিল্লিয়েছেন দেড় কোটি রোহিঙ্গা আর মুসলমান ঘুসপেটিয়াদের বার করা হবে ইত্যাদি বলে কিন্তু এখনও প্পর্যন্ত যে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেই তালিকাতে ওনার পার্টনার ইন ক্রাইম জ্ঞানেষ কুমার, নির্বাচন কমিশনার জানান নি যে কতজন রোহিঙ্গা ধরা পড়েছেন কিন্তু ইতিমধ্যেই আমরা জানি যে ৯১ লক্ষের মধ্যে ৬৩ .৩ লক্ষ ভোটার হলেন হিন্দু আর ৩৪.২ লক্ষ ভোটার হলেন মুসলমান। আসলে যে পুকুরে আপনি রুই মাছ ফেলেছেন ৮০ টা আর কাতলা ২০ টা, সেই পুকুরে জাল দিলে কমবেশি একই হিসেবে অনেক বেশি রুই উঠবে আর কাতলা কম উঠবে, আমাদের গ্রাম বাংলার এই সরল সহজ হিসেব যে মানুষজন জানেন, সেই সাধারণ হিসেবটা ভারত সরকারের এই দুই গুজরাটি আর তাঁদের ধর্ম সন্তানদের জানা নেই। কাজেই দেখা যাচ্ছে হিন্দু এলাকাতে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু ভোটারেরা বাদ পড়েছেন, মুসলমান এলাকাতে গুটিয়ে থাকা মুসলমানরাও বাদ পড়েছেন। এতে ভোটে বিরাট কিছু হের ফের হবার নয়। অতএব প্রাথমিক চড়া হাসি ধিরে ধীরে শুকোচ্ছে, গলা খুস খুস করছে, তেষ্টা পাচ্ছে এবং তাঁরা কিছু অন্য ন্যারেটিভ গড়ার চেষ্টা করছেন, সেগুলোকে ছড়িয়ে এই এস আই আর এর অভিঘাতকে কম করার চেষ্টা করছেন বা তাকে ঘুরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করছেন। এরমধ্যে প্রথম কথাটা হল কেন বাংলাতেই এত হলচল? এত প্রতিবাদ? এত মাথাব্যাথা? এত সমস্যা? কই উত্তর প্রদেশে বিশাল সংখ্যক মানুষজনের ভোট কাটা গেছে, কই সেখানে তো হলচল নেই, প্রতিবাদ নেই। কই সেখানে তো মানুষ এভাবে রাস্তাতে নামছেন না? আসুন আগে এই বিষয়টাকে খতিয়ে দেখি। যাঁরা এই কথা গুলো বলছেন তাঁদের এই প্রশ্নও তো তাহলে করাই উচিত যে কেন এই বাংলাতেই সতীদাহের বিরুদ্ধে রামমোহন রায়ের নেতৃত্বে মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল? কই রাজস্থানে তো এখনও সতীদাহ স্থলের পুজো হয়, মাত্র ১৯৮৭ তে ঐ রাজস্থানেই জ্যান্ত সহমরণে পাঠানো হয়েছে রূপ কানোয়ারকে। আমাদের পশ্চিম ভারতে কই এই সতীদাহ নিয়ে কোনও হই চই তো হয় নি। কেন কজন মহিলা কে জ্যান্ত পুড়ে মরা নিয়ে বাঙালিরা এই বাংলাতে এত হৈ চৈ করলো বলুন দেখি? আচ্ছা বিধবা বিবাহ? কই গুজরাটে তো কোনও গুজুভাই, মোটাভাই তার বিধবা বিবাহের পক্ষে সওয়াল করেন নি, এখনও করেন না, রাজস্থানে ভাবতেও পারেন না। কেন বাংলাতেই বিদ্যাসাগর নামলেন বিধবা বিবাহ প্রথা চালু করতে? এরকম অজস্র কেন এসে হাজির হবে তালিকাতে, কেন বাঙালিরাই এসব করেছে বা করে নি, কেন দেশ জুড়ে গণেশের দুধ খাবার সময়ে প্রথম এই বাংলার দূরদর্শনে কিছু বাঙালি দেখিয়েছিলেন গণেশ দুধ খাচ্ছে না ওটা সারফেস টেনশনের ব্যাপার।

সারা ভারতে আর কোথাও একজন পরম পুজ্য হিন্দু সন্যাসীর কথা বলুন তো যিনি কলমা পড়ে মুসলমান হয়ে, খ্রিস্টান ধর্ম সাধনা করে জানিয়ে ছিলেন যত মত তত পথ? হ্যাঁ আমাদের এখানে এক গণ সচেতনতা আছে, সেই সচেতনতা আমাদের বুঝিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকারকে ধরে রাখতে হবে, তা ছিনিয়ে নিতে দেবো না। মানুষ চোখের সামনে গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার বিরুদ্ধে তুখে দাঁড়িয়েছেন, কিছু বালখিল্য মূর্খের দল বিষয় নিয়ে আলোচনা না করেই আলোচনাটাকে ঘুরিয়ে দেবার জন্যই বলতে শুরু করেছেন, কেন বাংলাতেই এই হলচল? কেন বাংলাতেই এত সমস্যা? আমরাই ১ পয়সা ট্রাম ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়েছিলাম সেদিন বিধান সভাতে জ্যোতি বসু বলেছিলান প্রশ্নটা এক পয়সা বা দু পয়সার নয়, প্রশ্নটা হল কার টাকা কার পকেট থেকে কার পকেটে যাচ্ছে, হ্যাঁ ন্যায়ের কথা, অধিকারের কথা বাঙালিরা বলেছে, বলবে, এটা নতুন কিছু নয়, অতএব হে অপগন্ডের দল আলোচনা করুন কী বলা হচ্ছে তা নিয়ে, কোন ইস্যুতে মানুষ প্রতিবাদ করছে তা নিয়ে, কেন এই অন্যায় নামিয়ে আনা হল তা নিয়ে। এবারে আসুন দ্বিতীয় যুক্তিতে, ১) নির্বাচন কমিশনের অধিকারই নেই এই স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিউ করার, হ্যাঁ সেটা তাঁদের হ্যান্ডবুকে নেই, মুখ্যমন্ত্রী সেটা জেনেই বলেছিলেন যে এই অসাংবিধানিক কাজ করতে দেবেন না, কিন্তু তাঁরা উচ্চঘর কংসরাজের বংশধর, নানান ফাঁক ফোকর বার করে এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মুখোশ পরে এসে হাজির হলেন, হ্যাঁ শুরুর প্রক্রিয়াতে তৃণমূল সমেত বিভিন্ন দলের বিএলএরা বিএলওদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে শুরু করেন, দেখা যায় সেটাতেও তৃণমূলের লোকজন কর্মীরা অনেকটা সংগঠিতভাবেই কাজ করছেন। এদিকে কেরালাতে ক্ষ্মতায় আছে সিপিএম, বিরোধিতায় কংগ্রেস, কাজেই সেখানে তাঁরা বিধানসভাতে এক এস আই আর বিরোধী এক প্রস্তাব পাস করালেন, এখানে সেই প্রশ্নই ছিল না কারণ এখানে সম্মিলত প্রস্তাব পাশ করানোর সুযোগই নেই, কারণ বাম কংগ্রেস শূন্য, তৃণমূল চিফ ইলেকশন কমিশনারকে জ্ঞানেষ কুমারকে (Gyanesh Kumar) ইমপিচ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, যে নোটিসে পরে সিপিএম কংগ্রেস সবাই সই করেছে। কিন্তু খেলাটা তো আসলে শুরু হল খসড়া তালিকা বের হবার পরে, হ্যাঁ ৬০ লক্ষের মত মৃত স্থানান্তরিত ভুয়ো ডুপ্লিকেট ভোটার বাদ দেওয়ার পরে আনা হল এক লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে। হ্যাঁ ঠিক এইখানটা নিয়ে বিজেপি দল আর কিছু মিডিয়া এক মিথ্যাচার শুরু করেছে, মানে দ্বিতীয় বিষয়টা এনে হাজির করানো হলো, এই সবই তো রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের কারবার, মমতার নির্দেশে তারাই তো এই কান্ডটা ঘটিয়েছেন, ইচ্ছে করেই সবটা ঘেঁটে দিয়েছেন যাতে করে মানুষের নাম বাদ যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এটা সত্যি হলে সেগুলো মিডিয়াতে আসতো, হৈ চৈ হত। কিছুই হল না কেন? সারা রাজ্য জুড়ে সমস্ত জেলাতে বাদ পড়লো কী ভাবে? লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে এই ঝামেলাটা পাকলো কীভাবে?

সত্যিই তো যখন প্রথম খসড়া রিপোর্ট বের হল তখন তো খুউউব সামান্য কিছু নাম নিয়ে আশঙ্কা ছিল, প্রশ্ন ছিল, কিন্তু তারপরে এই আরও ৬০ লক্ষ বিচারাধীন হল কী করে? হ্যাঁ এইখানেই এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে যা করা হল তা সারা ভারতে কোথাও করা হয় নি। ১) মাইক্রো অবজার্ভারদের আনা হল যাঁরা এতদিন ধরে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের ওপরে এসে বসলেন ২) পুরো খসড়া ভোটার তালিকাকে এক প্রোগ্রামড আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজন্ট সফটোয়ার দিয়ে ঝাড়াই বাছাই করে ৬০ লক্ষ নামকে আলাদা করা হল, যেখানে চট্টোপাধ্যায় চ্যাটার্জি হলেই ঐ সফটওয়ার বলে দিয়েছে বাবা আর ছেলের নাম লজিক্যালি মিলছে না, শেখ যদি এস কে হয়ে গিয়ে থাকে তাহলেই তাকে বার করে আনো, একই বাবার নামে ৬ এর বেশি সন্তান হলে সবকটাকে বার করে আনো, একজন ঘোষ বা মুখার্জি পরিবারে খাতুন বা বেগম থাকলে তাকে বার করে দাও, হ্যাঁ ভালো কত্রে বুঝুন এটা মানুষে করেনি, এটা এক যন্ত্রের সমস্যা, তাদের মনে হয়েছে এটা হল সেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি, কারণ যিনি এই প্রোগ্রাম করেছেন তিনি বাঙালি নন, তিনি বিভিন্ন ধর্মের নাম সমাজ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তিনি সম্ভবত এক ছোট্ট সুখি পরিবারের রুপোর চামচ মুখে দেওয়া একজন যাঁর ভারতীয় সমাজ পরিবার সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। কাজেই সেই নয়ডায় বসে থাকা এক হাইটেক সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি প্রোগ্রামে ৬০ লক্ষ মানুষ রাতারাতি হয়ে গেলেন বিচারাধীন কদিন আগেই যাদের নাম ছিল খসড়া তালিকাতে, নির্বাচন কমিশনের শর্ত অনুযায়ী এঁদের প্রত্যেকের নাম বা এঁদের বাবা মা দাদু দিদার নাম আছে ২০০২ ভোটার তালিকাতে। এবারে মাথার ওপরে খাঁড়া ঝুলছে, ৫ বছর সময় ধরে এন আর সি হয়েছে অসমে, উত্তর প্রদেশ ইত্যাদিতে এই এস আই আর হচ্ছে নির্বাচন ২০২৭ এ নাম বাদ গেলেও আপিল করার সুযোগ থাকছে, এদিকে বাংলাতে ক্রমশ সময় কমছে, মানুষ ধৈর্য হারাচ্ছেন, মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন, আত্মহত্যা করছেন, অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। এরই মধ্যে বেরিয়ে এল ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের নাম, কখন বের হল? যখন ভোটার তালিকা ফ্রিজ হতে এক মাসেরও কম সময় হাতে আছে। এবং ওনারা তাল করছিলেন শুভেন্দু অধিকারির নির্দেশ মেনেই এই ৬০ লক্ষকেই বাদ দিতে যাতে ওনার দেওয়া ওই ১ লক্ষ ২০ হাজার জালি ভোটার ছিল, ঘুসপেটিয়া ছিল, ওই ওরা ছিল তালিকাতে, এবারে নির্বাচন কমিশন কেটে দিয়েছে, এবারে হিন্দুদের ভোটেই হিন্দুত্ববাদী সনাতনী বিজেপি জিতে যাবে। ন্যারেটিভ তো এটাই। এরকম একটা সময়ে মমতা গেলে আদালতে, আদালত বিচারবিভাগীয় স্ক্রুটিনির আদেশ দিলেন, এবারে শুরু হল আরেক খেলা, সেই যন্ত্রে মানুষে লড়াই এর মতন সময়ের সঙ্গে বিচারকদের লড়াই, তাঁরা ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের ডকুমেন্টস দেখেকে ভোটার বা কে ভোটার নয় সেটা বলার জন্য যে সময় পেলেন, চ্যালেঞ্জ জানিয়েই বলছি সেটা অমানুষিক অসম্ভব এক কাজ, ৫/৬ মিনিটে একজনের আবেদন দেখে সেটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তো শেষমেষ সেই নাটক শেষ হল, পড়ে রইল ২৭ লক্ষ নাম, তাঁরা কি বাদ? তাঁরা কি ডিলিটেড? না আদালত জানালো তাঁরা এখনও বিচারাধীন, এবারে তাঁদের বিচার করবে এক ট্রাইবুনাল, তো সেই ট্রাইবুনালের দফতর সবে কাজ শুরু করেছেন কিন্তু ভোটার তালিকা নির্বাচন জমিশন জানিয়েছেন ফ্রিজ হয়ে গেছে। তাহলে ওই ট্রাইবুনালের ভড়ংবাজী কেন? ট্রাইবুনাল করা মানেই তো বলেই দেওয়া হল, মেনেই নেওয়া হল যে এক বড় সংখ্যার বৈধ ভোটার এই ২৭ লক্ষের মধ্যে রয়ে গেছে, এবং সেটা যে আছে তাও প্রমাণ হল, মাত্র তিনজন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন এমন লোকজনের নাম বিচারাধীন ছিল, তড়িঘড়ি করে বিচার হল আর তিনজনেই তাঁদের নামকে ভোটার তালিকাতে ফিরে পেলেন যা না হলে তাঁরা প্রার্থী হতেই পারতেন না। তাহলে কী হবে?

এক বিচারপতি, লজ্জা হচ্ছে বলতে তিনিও নাকি বাঙালি তো সেই তিনি বললেন আহা এমন তো নয় যে ওনাদের ভোট দেবার অধিকার বরাবরের জন্য কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আগামী বছরে আবার ফিরে পাবেন, মানে? ছটা মাস বিনা বেতনে কাজ করুন, হ্যাঁ ছটা মাস, তারপরে তো আবার বেতন পাবেন, এটাই যদি ঐ জাজ সাহেব কে বলা হয়? তাঁর উত্তর কী হবে? কে মাথার দিব্যি দিয়েছিল এই এস আই করার? আমরা নই, পাবলিক নয়, নির্বাচন কমিশন, এখন সময়ের অজুহাতে ভোট দেবার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায়? এই অবস্থা দেশের আর কোথাও হয়েছে? আর কোনও রাজ্যে? আমাদের রাজ্যের ২৭ লক্ষ নাগরিক তাঁদের ভোট দেবার অধিকার হারাবেন আমরা রাস্তায় নামবো না? আমরা ঘরে বসে থাকবো? আমরা প্রতিবাদ করবো না? করবো না কি এই জন্য যে সবাই বলবে কেন বাংলাতেই এসবের প্রতিবাদ হয়? আমাদেরও সেরকম প্রতিবাদহীন দেখতে চান যাঁরা তাঁদের বলি এখানে প্রতিবাদ এক জীবন চর্যা, ঘাঁড় গুজে রক্ত ফেনা কফ পিত্তি চুষে জীবন কাটানো বাঙালির রক্তে নেই, দেখতে হলে কেবল স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পড়ুন, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের ইতিহাস পড়ুন, বিনয় বাদল দীনেশের ইতিহাস পড়ুন, পেডি ডগলা বার্জ কে গুলি করে মারার ইতিহাস পড়ুন, সেদিন ইংরেজরাও এই প্রশ্নই করেছিলেন, কেন বাংলাতেই বিপ্লববাদীরা এত শক্তিশালী? কেন বাংলাতেই এত ইংরেজ হতার ঘটনা ঘটে? সারা দেশের কংগ্রেস নেতাদের মত এ রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা কেন শুদ্ধ অহিংসার চর্চা করে না? আজ যাঁরা বলছেন কেন বাংলাতেই হচ্ছে এই সমস্যা, কেন এখানেই এত হলচল তাঁরা বাঙালিই নন, তাঁদের বাংলার ইতিহাস জানা নেই, এই বাংলার কবি বসে থাকেন একটা ফুলকি কখন দাবানল তৈরি করবে তার অপেক্ষায়। এবং তাই আবার অর্ডার এসেছে ট্রাইবুনাল আগামী কাল পর্যন্ত যে নামের তালিকাকে ভোটার বলে সিদ্ধান্ত জানাবে সেই নাম প্রথম পর্বের ভোটার তালিকাতে জোড়া হবে। পরের পর্যায়ে সেই তালিকা ফ্রিজ হবে ২৭ এপ্রিল। কিন্তু নিশ্চিত বহু বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার থাকবে না, সেই দিক থেকে ২০২৬ এর বাংলার ভোট ইতিহাসে থেকে যাবে যেখানে এক সঙ্ঘি জ্ঞানেষ কুমারের জন্য কমসম করে ২৫ লক্ষ মানুষ ভোট দিতেই পারবেন না।

 

Latest News

দুই ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা, ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া

কলকাতা: ফের দুর্যোগের ভ্রুকুটি দক্ষিণবঙ্গে। সোমবারও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া (Rain...

More Articles Like This