ওয়েব ডেস্ক : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের (Iran) উপর আমেরিকা (America) ও ইজরায়েলের (Israel) যৌথ হামলার পর থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনও এই সংঘর্ষ থামেনি।
এদিকে আক্রমণের মুখেও ইরান (Iran) দ্রুত ভেঙে পড়েনি। পাল্টা ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় তাঁরা। উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক হামলা ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার পক্ষ থেকে কিছু ক্ষেত্রে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে গোপন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত চাপ সৃষ্টি করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। পাল্টা হিসেবে ইরান (Iran) শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানে। ভারত মহাসাগর পর্যন্ত এই সংঘর্ষের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। যখন একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়।
আরও খবর : ১ কোটি ভারতীয়র জীবন নিয়ে খেলছে কংগ্রেস! মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদির
এদিকে লেবাননে ইজরায়েল (Israel) ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের। লক্ষাধিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, ইরানেও এখনও পর্যন্ত বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বহু সাধারণ নাগরিক রয়েছেন বলেও খবর।
এসবের মাঝে ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এই গ্যাস ক্ষেত্রটি এই গ্যাসক্ষেত্রটি ইরানের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের ৮০ শতাংশ চাহিদাও পূরণ করে থাকে। এর পাল্টা হামলা চালায় তেহরানও। কাতার ও সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল শোধনাগার প্ল্যান্টে হামলা চালানো হয়। সূত্রের খবর, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, গ্যাসক্ষেত্রে হামলা নিয়ে আমেরিকার কাছে কোনও আগাম তথ্য ছিল না। তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোকে হামলা যেন না করা হয়, তা ইজরায়েলকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সংঘর্ষের মাঝেই ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে?
দেখুন অন্য খবর :

