ওয়েব ডেস্ক : “মার খেয়েই শিখেছি, হামলা করতে হয় অতর্কিতেই”, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষের মাঝে এমনই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জাপানের (Japan) প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-কে (Sanae Takaichi) পাশে বসিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন পার্ল হারবার (Pearl Harbour) হামলার কথা। ট্রাম্পের দাবি, গোপন আক্রমণই হল যুদ্ধের কার্যকর কৌশল। এমনকি ইরানে গোপন হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-কে হত্যা করা ‘সঠিক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বিতীয় বছর। ইউরোপজুড়ে জার্মান একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের আগ্রাসন ক্রমশ বাড়ছে। জার্মানি, জাপান ও ইতালির অক্ষশক্তি বিশ্বের বিভিন্ন অংশে দখলদারি বিস্তার করছে। তখনও আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবে মিত্রশক্তিকে নানাভাবে সহায়তা করছিল। এই পরিস্থিতিতেই ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১-এ জাপানের আকস্মিক হামলায় বিধ্বস্ত হয় মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবার (Pearl Harbour)। ধ্বংস হয় ২১টি যুদ্ধজাহাজ, প্রায় ৩০০টি বিমান এবং নিহত হন প্রায় ২,৪০০ আমেরিকার সামরিক ও অসামরিক মানুষ। এর পরেই জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আমেরিকা, বদলে যায় যুদ্ধের গতিপথ।
আরও খবর : ১৯ বছরের তরুণ কুস্তিগিরকে ফাঁসি দিল ইরান! কারণ কী?
এই ঐতিহাসিক ঘটনাকেই সামনে রেখে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প (Trump)। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, ইরানে মাঝরাতে গোপন হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু কি ন্যায্য? উত্তরে তিনি পার্ল হারবার হামলার উদাহরণ টেনে বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অতর্কিত আক্রমণ অনেক সময় কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়। ট্রাম্পের এমন কথা শুনে হতবাক হয়ে পড়েছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী
কথায় আছে, যুদ্ধ ও প্রেমে অনেক কিছুই ন্যায্য বলে মনে করা হয়। মহাভারতের যুদ্ধেও নীতি ও কৌশলের সীমা বহুবার ভাঙা হয়েছে। যুধিষ্ঠিরকে মিথ্যা বলতে হয়েছে, কৃষ্ণ কৌশলে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়েছেন, আর ভীম অন্যায়ভাবে দুর্যোধনের ঊরু ভেঙেছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে আজকের ধ্বংসযজ্ঞে গোপনীয়তা আর হত্যার মহিমা কীর্তন করে নয়া বিশ্বযুদ্ধের দিকেই কি হাঁটছেন ট্রাম্প?
দেখুন অন্য খবর :

