32 C
Kolkata

শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের, কেন্দ্র-সিজেপি বৈঠকের আগেই বড় সিদ্ধান্ত

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তিনি। কেন্দ্র এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সেই দাবিই এবার পূরণ হল আন্দোলনকারীদের।

আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করলে কেন্দ্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না। শনিবার সকালেও সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া আলোচনায় বসবে না তারা। এর আগে শুক্রবার কেন্দ্র আন্দোলনকারীদের অন্য দুটি দাবি—ছাত্রদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যাকারী ছাত্রদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

আরও খবর : টাইফয়েডে আক্রান্ত ‘ককরোচ’ প্রধান অভিজিৎ দীপকে

ইস্তফার পর প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) লেখেন, দেশের যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণই তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার।

পদত্যাগপত্রে তিনি আরও জানান, ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, গত ৩ মে নিটের পরীক্ষায় যে অনিয়ম ধরা পড়েছিল, প্রথম দিন থেকে তিনি তার দায় নিয়েছিলেন। কখনও দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেননি। সঙ্গে জানিয়েছেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশবিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা।

তিনি আরও লেখেন, গত কয়েকদিনের ঘটনাবলি তাঁকে মর্মাহত করেছে। তবে দেশের যুবসমাজকে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে না দেওয়াই তাঁর অঙ্গীকার ছিল। ভারতের প্রকৃত শক্তি দেশের তরুণ প্রজন্ম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি যন্তর-মন্তরে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে দেশের ঐক্য ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। সিজেপি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, “Long Live Student Power।” ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) বলেন, “এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না, এমনটাই বলা হত। কিন্তু আমরা সেটা করিয়ে দেখিয়েছি।”

Latest News

More Articles Like This