ওয়েবডেস্ক- রবিবার ঝাড়গ্রামে (Jhargram) প্রচার সেরে ফেরার পথে এক অন্য রূপে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে (Pm Narendra Modi) । কনভয়ে থামিয়ে তিনি সোজা চলে আসেন এক দোকানের সামনে। সেখানে এসে বিক্রেতাকে ঝালমুড়ি (Jhalmuri) বানিয়ে দিতে বলেন। দোকানে ঢুকতে ঢুকতেই বলেন, ‘ভাই হামে আপনা ঝালমুড়ি খিলাও। কিতনে কা হোতা হ্যয় ঝালমুড়ি?’ কোটের পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দেন প্রধানমন্ত্রী। সে টাকা নিতে চাননি বিক্রম। প্রধানমন্ত্রীও নাছোড়। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ির খাওয়া নেপথ্যে রাজনীতি রয়েছ বলেই দুষছে শাসক দল।
কলেজ মোড়ে তিনি মুড়ি খাচ্ছিলেন। আর সেই কারণেই বেশি সময় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর। আর ঝালমুড়ির প্রেমের কারণে ঝাড়গ্রামে ঠিক মতো সময় পৌঁছতেই পারল না, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম)-এর প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemanta Soren) ও তার স্ত্রী কল্পনা সোরেন। কারণ ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য ‘নো ফ্লাই জোন’ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে কেশিয়াড়িতে সভা করেই সস্ত্রীক রাঁচি ফিরে যান হেমন্ত সোরেন। রবিবার তৃণমূলের প্রার্থীদের প্রচারে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফর পূর্ব নির্ধারিত ছিল।
আর রবিবারই ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির। এদিকে মোদি সভা শেষে ঝালমুড়ি খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দাঁতন আর কেশিয়াড়িতে সভা করে হেলিকপ্টারে লালগড়ে আসার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছিলেন হেমন্ত সোরেন ও স্ত্রী কল্পনা সোরেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জন্য ‘No Flying Zone’ তাঁদের হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে রাঁচি থেকেই ফিরে যান। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের সভা বানচাল করেছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এতেই নরেন্দ্র মোদির ‘আদিবাসী বিরোধী’ মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানান, ঝাড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সোরেনের সমর্থনে হেমন্তের সভার জন্য সবাই অপেক্ষা করছিলেন। সাঁওতালি ভাষায় হেমন্তের বক্তব্য শুনবেন বলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ ভিড় জমান। অপেক্ষা করে করে ফিরে যান সকলে।
আরও পড়ুন- ভোটের মুখে গ্রেফতার হতে পারে ৮০০ তৃণমূল কর্মী! কমিশনে জমা পড়ল নাম!
ক্ষুব্ধ ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ঝাড়গ্রামে আমাদের সভা বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি। চক্রান্ত করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের সফর ভেস্তে দিয়েছে। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সভা রয়েছে বলে ‘নো ফ্লাই জোন’ করে রাখা হয়েছল। সেই কারণে হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার ঝাড়গ্রামের আকাশে উড়তে পারেনি। আমরা খুবই মর্মাহত, ধিক্কার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে। আমরা পুরো নিয়ম মেনেই অনুমতি নেওয়া সত্বেও সভা করতে পারলাম না।”
