কলকাতা: নতুন বছরের শুরু থেকেই চতুর্থবার তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলাজুড়ে প্রচার শুরু করে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee )।বারুইপুর থেকে ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রথম ভোটপ্রচার শুরু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম সভা থেকেই আসনের টার্গেট সেট করে ফেললেন তিনি। এদিনের বারুইপুরের মেগা সভায় দিল্লির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর সেই বাদানুবাদের ঘটনাকে এদিন জনতার সামনে তুলে ধরেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ বলেন, বাঙালি কী, বুঝিয়ে এসেছি। বাংলার ‘দম’ নিয়ে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের। বললেন, এবার গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি বাংলা কী।পরেরবার মমতা যাবেন।
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন অভিষেক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদের কথা আগেই জানা গিয়েছিল। বারুইপুরের মঞ্চ থেকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমার সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত।জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক এদিন আরও বলেন যে, বাঙালিকে যারা ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, তারা ভুল করছে।বাঙালি কী, দিল্লিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন। এসআইআরে মৃত’দের বারুইপুরের মঞ্চে তুললেন অভিষেক। র্যাম্পে তাঁদের হাঁটানো হচ্ছে। দু’জন ব্যক্তি এবং এক জন মহিলাকে র্যাম্পে তোলা হয়েছে। দু’জনের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ এবং এক জনের বাড়ি কাকদ্বীপে। অভিযোগ, তাঁদের মৃত বলে দেখানো হয়েছে এসআইআর-এর তালিকায়।অথচ দেখুন, এবার সবাই বেঁচেবর্তে রয়েছেন। তাহলে কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, এঁরা সবাই ভূত! আমি তাই এই ‘ভূত’দের ডেকে হাঁটালাম।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিরাট মন্তব্য অভিষেকের
জানুয়ারি মাস জুড়ে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনসংযোগের পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে এটিই অভিষেকের প্রথম জেলা সফর। বারুইপুরের এই সভার জন্য বিশেষ চতুর্মুখী র্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এদিন সভা থেকে ছাব্বিশে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সব আসন জিততে হবে। একত্রিশে ৩১” – জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, একুশের চেয়ে ভোট শতাংশ এবং আসন সংখ্যা বাড়াতে হবে।” নাম না করে ভাঙড় অর্থাৎ নওশাদের গড় জেতার কথা বললেন অভিষেক।বিজেপি শাসিত সরকারগুলিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বললেন, ”যদি কেউ বাংলার মতো মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারেন নিঃশর্তভাবে। আরও বলেন, ‘‘একটা বিধানসভায় পাঁচ হাজার চাকরিও বিজেপির সরকার দিয়েছে? দেখাতে পারবে? প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।