কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (Assembly Election 2026) শেষ হতেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিডিও বার্তায় প্রার্থীদের স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপর রাত ৮টা নাগাদ প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই নিজে পৌঁছে যান শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে, যেখানে রাখা হয়েছে ভোটের ইভিএম।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির মাঝেই স্কুলের বাইরে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল সমর্থকদের বচসা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। প্রায় চার ঘণ্টা স্ট্রংরুমে থাকার পর বেরিয়ে এসে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে এক ‘গুজরাতি যুবক’ও উপস্থিত ছিলেন। মোবাইলে একটি ভিডিও দেখিয়ে তিনি বলেন, গণনাকেন্দ্রের বাইরে অশান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয় এবং বাইরের লোক এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “এটা আমার জায়গা। চাইলে আমি ১০ হাজার লোক জড়ো করতে পারি।”
আরও পড়ুন: স্ট্রংরুমের ভিতরে মমতাকে নজরদারি শুভেন্দুর এজেন্টের, পোস্ট করে দাবি বিজেপি নেতার
যদিও অভিযুক্ত ওই যুবক নিজেই সামনে এসে পালটা বক্তব্য রাখেন। জানা গিয়েছে, তাঁর নাম দীপ প্রজাপতি। তিনি দাবি করেন, তিনি ভারতের নাগরিক এবং দেশের যেকোনও জায়গায় যাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি এখানে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি দেখে প্রতিবাদ করেছি।” তবে তিনি নিজের স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল চত্বরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা, বাড়ানো হয়েছে পুলিশ মোতায়েন। স্কুলের আশপাশে যান চলাচলেও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পাশাপাশি ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরেও বসানো হয়েছে গার্ডরেল।
দেখুন আরও খবর:
