ওয়েব ডেস্ক : সরকারি চাকরি করেন? তাহলে সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) দিকে নজর থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ এবার শুধু বেতন কাঠামো নয়, কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধা—একাধিক বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে ইনক্রিমেন্টের হারে। সেটি বাড়িয়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কর্মীদের বেতন বাড়লে শুধু ডিএ (DA)-র উপরেই তার প্রভাব পড়বে না। ইনক্রিমেন্টের হার ৩% থেকে ৫% বাড়ানো হলে প্রতি বছর মূল বেতন বৃদ্ধির পরিমাণও বাড়তে পারে। সেই কারণেই নতুন বেতন কাঠামোয় বেসিক পে কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের বেতন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় কতটা পিছিয়ে রয়েছে, তারও হিসেব করা হচ্ছে। ব্যবধান কমানোর কোনও সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে।
আরও খবর : স্বাধীনতা দিবসে বড় সম্মান রাজ্য পুলিশের ১৩ আইপিএসকে, পদক পাচ্ছেন দময়ন্তী সেন-সহ একাধিক আধিকারিক
এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক ভাতা। কর্মীদের বাড়িভাড়া, যাতায়াত এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ সংক্রান্ত সুবিধা নতুন করে দেখা হচ্ছে। ছাত্রাবাসের জন্য দেওয়া ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলিও আলোচনার বাইরে থাকছে না। ফলে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে পরিবর্তন শুধুমাত্র মাসিক বেতনের অঙ্কে সীমাবদ্ধ থাকবে না, কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধার উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এবং অবসরের মুখে থাকা কর্মীদের বিষয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। এককালীন পেনশন পুনর্বহাল, জমা ছুটির হিসাব এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধির মতো বিষয় কমিশনের সামনে রয়েছে। ২২ জুলাই ২০২৬ কমিশন গঠিত হলেও এখনও কাজ চলছে প্রাথমিক পর্যায়ে। কর্মীদের জন্য কমিশন সংক্রান্ত তথ্য সহজে পৌঁছে দিতে বিশেষ পোর্টাল চালুর সিদ্ধান্তও হয়েছে। তাই এখনই বেতন বা ডিএ কত বাড়বে, তা বলা সম্ভব নয়। কমিশনের রিপোর্ট আসার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
