ওয়েব ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে আমেরিকা (America)। তৃতীয় একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নৌবহরটি নভেম্বরের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার রয়েছে। সেগুলি হল ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। নতুন মোতায়েন সম্পূর্ণ হলে ওই অঞ্চলে তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থাকবে। এর সঙ্গে থাকছে মেরিন বাহিনীর সদস্য এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ। এদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের সময়েই ইরান নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আরও খবর : বরফযুগের বিশাল ম্যামথ কি ফিরছে?
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করেননি ট্রাম্প। ইরানের প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং পরমাণু আলোচনা শুরু করার বিষয় ছিল। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাব তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এর মধ্যেই ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ককপিটে হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে ইরানের নাম উঠে এসেছে। দুবাই থেকে ইজরায়েলগামী ওই বিমানের ওমানি সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। পরে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি যে তথ্য পাচ্ছেন তার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি ওই হামলার পিছনে থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক দেশের তদন্ত চলছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, হামলার সঙ্গে ইরানের যোগ প্রমাণিত হলে আমেরিকা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ঘটনার পিছনে ইরানের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
