ওয়েব ডেস্ক : অন্ধ্রপ্রদেশে বিজেপির এক স্থানীয় নেতার বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তে নয়া মোড়। প্রথমে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বিবাদ বা ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে মনে করা হলেও, তদন্ত এগোতেই উঠে আসল বিজেপি (BJP) নেতা মুনিরাজুকে খুনের পরিকল্পনার অভিযোগ। ঘটনায় তাঁর স্ত্রী প্রশান্তী-সহ ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি তিরুপতি জেলার চন্দ্রগিরি এলাকার। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ির বাইরে রাখা মুনিরাজুর মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মুনিরাজু থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ (Police)। তিনি বিজেপির মণ্ডল সভাপতি হওয়ায় প্রথমে রাজনৈতিক শত্রুতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ এবং বিনায়ক চতুর্থীর ফ্লেক্স ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের সঙ্গে ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। তবে প্রাথমিক ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও খবর : জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ধুন্ধুমার, আটক অতীশী-সহ বহু নেতা
এরপর সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তকারীদের হাতে আসে পাঁচ যুবকের নাম, সাই, উদয় কিরণ, লীলা কৃষ্ণ, পৃথ্বীরাজ এবং হরিশ। তাঁদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মুনিরাজুর বাইকে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা তাঁরা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি। বাইকে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরানো হয়েছিল বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
তবে এখানেই শেষ হয়নি তদন্ত। ধৃতদের মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে গিয়ে মুনিরাজুর স্ত্রী প্রশান্তীর সঙ্গে সাইয়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশের দাবি, প্রশান্তী স্বামীর গতিবিধির উপর নজর রাখতেন। তাঁর দৈনন্দিন চলাফেরা সম্পর্কে সাইকে তথ্য দিতেন। এমনকি মুনিরাজু কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে সরাসরি তথ্যও অন্য অভিযুক্তদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।
পুলিশের আরও দাবি, প্রশান্তী ও সাই-সহ অন্য অভিযুক্তরা মুনিরাজুর উপর হামলা চালানোর বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছিলেন। তাঁকে খুনের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ হতে পারে। এরপর প্রশান্তী, সাই, উদয় কিরণ, লীলা কৃষ্ণ, পৃথ্বীরাজ এবং হরিশ—ছ’জনকেই গ্রেফতার করে চন্দ্রগিরি পুলিশ। তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। পুরো ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং কথিত খুনের পরিকল্পনার পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
