মোবাইল ডিভাইসের পরিচয় সুরক্ষায় কড়া আইন, আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধ

Must Read

দেবাশীষ সেনগুপ্ত

মোবাইলের আইএমইআই নম্বর-সহ টেলিযোগাযোগের পরিচয় নম্বরে কারচুপি করলে এবার আরও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। টেলিযোগাযোগ আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দু’ধরনের দণ্ডই হতে পারে। শুধু তাই নয়, আইএমইআই-সহ টেলিযোগাযোগ পরিচয় নম্বরে কারচুপি এবং প্রতারণার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ পরিচয় সংগ্রহের মতো অপরাধকে আমলযোগ্য (cognizable) ও অজামিনযোগ্য (non-bailable) করা হয়েছে। মোবাইল ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষায় এই বিধানের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)।

দেশে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে মোবাইল ফোন এবং টেলিযোগাযোগ পরিষেবার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ভারতে সক্রিয় ওয়্যারলেস মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২০.৪০ কোটি-তে পৌঁছেছে। বিপুল এই গ্রাহকভিত্তির পাশাপাশি অনলাইন পরিষেবা, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পরিষেবায় মোবাইলের উপর নির্ভরতা বাড়ায় ডিভাইসের প্রকৃত পরিচয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আইএমইআই (International Mobile Equipment Identity) হল ১৫ সংখ্যার একটি অনন্য নম্বর, যার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে মোবাইল ডিভাইসকে শনাক্ত করা হয়। এই নম্বর বেআইনি ভাবে পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা বিকৃত করা হলে ফোনটির প্রকৃত পরিচয় আড়াল করা সম্ভব। সেই কারণেই টেলিযোগাযোগ (Telecom Cyber Security) Rules-এ কোনও ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত ভাবে ইউনিক টেলিকমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর মুছে ফেলা, পরিবর্তন বা বিকৃত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুধু আইএমইআই বদল করাই নয়, কোনও ডিভাইসের আইএমইআই আগে থেকেই পরিবর্তিত বা কনফিগার করা হয়েছে জেনেও সেই হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার ব্যবহার, তৈরি, বিক্রি কিংবা নিজের দখলে রাখার বিরুদ্ধেও বিধান রয়েছে। ফলে শুধু কারচুপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিই নয়, পরিবর্তিত পরিচয়যুক্ত ডিভাইসের জ্ঞাতসারে ব্যবহার বা বাণিজ্যিক লেনদেনও নজরদারির আওতায় আসছে।

আরও খবর : ডিসেম্বরে আমেরিকা যেতে পারেন মোদি, জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

আইএমইআই-এর প্রথম আটটি সংখ্যা হল টাইপ অ্যালোকেশন কোড বা TAC। এটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল ডিভাইসের মডেল বা ধরন নির্দেশ করে। বিশ্বব্যাপী TAC বরাদ্দের বিষয়টি GSMA-এর তত্ত্বাবধানে হয়। আবার ডুয়াল-সিম ফোনে সাধারণত দুটি সিম স্লটের জন্য দুটি পৃথক আইএমইআই থাকে।

নিজের মোবাইলের আইএমইআই নম্বর জানতে *#06# ডায়াল করা যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রের ‘সঞ্চার সাথী’ পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসের তথ্য যাচাই করা সম্ভব। ১৪৪২২ নম্বরে KYM <১৫ সংখ্যার IMEI> লিখে এসএমএস পাঠিয়েও আইএমইআই যাচাই করা যায়।

ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, বিক্রেতা এবং ব্র্যান্ড মালিকদের জন্যও নির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতে তৈরি সংশ্লিষ্ট ডিভাইস বিক্রি বা গবেষণার আগে আইএমইআই নথিভুক্ত করতে হবে। আমদানিকারকদেরও দেশে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম আনার আগে আইএমইআই নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করেছে টেলিযোগাযোগ দপ্তর। পরিবর্তিত আইএমইআই-যুক্ত মডেম, মডিউল বা সিম বক্স ব্যবহার বা সংগ্রহ না করা, ভুয়ো নথিতে সিম না নেওয়া, নিজের নামে থাকা সিম অন্যের হাতে তুলে না দেওয়া এবং কলিং লাইন আইডেন্টিটি বা CLI পরিবর্তনের জন্য তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের বক্তব্য, আইনগত ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত যাচাই এবং নাগরিক সচেতনতা-এই তিনটি স্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমেই দেশের টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোকে আরও নিরাপদ করা সম্ভব। বিপুল মোবাইল গ্রাহকভিত্তির এই দেশে ডিভাইসের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং বেআইনি ভাবে সেই পরিচয় পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়াই এখন টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Latest News

জনস্বার্থ মামলা নিয়ে হাইকোর্টের ক্ষোভ, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার হুঁশিয়ারি

ওয়েব ডেস্ক : গুচ্ছ গুচ্ছ জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বুধবার...

More Articles Like This