কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ঘিরে নতুন করে বিতর্ক। প্রায় ২৮ বছর পর এই প্রতীকের নকশার সঙ্গে নিজের যোগের দাবি করলেন প্রবীণ চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। তাঁর দাবি, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির সময় প্রয়াত কংগ্রেস নেতা অজিত পাঁজার অনুরোধে তিনি একাধিক ফুলের নকশা এঁকেছিলেন। পরে টেলিভিশনে নতুন দলের প্রতীক হিসেবে নিজের আঁকা জোড়াফুল দেখতে পান বলে দাবি শিল্পীর।
সোমনাথের বক্তব্য, প্রতীক তৈরির জন্য অজিত পাঁজার অনুরোধে তিনি কয়েকটি স্কেচ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজের জন্য পরবর্তী সময়ে কোনও স্বীকৃতি পাননি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের পুরনো নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরই তাঁর পুরনো দাবি ফের সামনে আসে।
শিল্পীর এই দাবির পালটা দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সে সময় অজিত পাঁজা একাধিক শিল্পীকে দিয়ে প্রাথমিক স্কেচ করিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু কোনও নকশার খসড়া তৈরি করা এবং একটি রাজনৈতিক প্রতীকের চূড়ান্ত ভাবনা বা রাজনৈতিক দর্শনের রূপকার হওয়া এক বিষয় নয়। কুণালের দাবি, প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত মূল রাজনৈতিক ভাবনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তবে সোমনাথ চৌধুরীর দাবি যে চূড়ান্ত প্রতীকের নকশার উৎস, তা স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন কোনও প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিল্পীর দাবি এবং কুণালের পালটা বক্তব্য—দুই-ই আপাতত সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।
এরই মধ্যে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি আরও বদলেছে। কমিশন মূল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্য গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক। ফলে প্রতীকের বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রায় তিন দশক আগের তার নকশার ইতিহাস নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
