কলকাতা: কথায় আছে রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। ঠিক তেমনই রাজনৈতিক মহল এনসিপিআই (NCPI) নামটাই সঙ্গে আগে পরিচিত ছিল না। কিন্তু তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা হওয়ার পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দলটি। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানালেন যে, তাঁদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে। হঠাৎ জনকৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা সেই এনসিপিআই এ বার ফেসবুক পেজও খুলে ফেলল। এবার ফেসবুকেও সক্রিয় হয়ে নিজেদের ‘বাংলার সবচেয়ে বড় সংসদীয় শক্তি’ বলে দাবি করল এনসিপিআই (NCPI The Party)।
বিধানসভার নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভরাডুবি দেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। যে তৃণমূল ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলার ক্ষমতা এসেছিল। গত ১৫ বছর বাংলার শাসনভার তাদের কাঁধে ছিল। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার মানুষ পরিবর্তনের দিকে মতদান করে ক্ষমতায় বিজেপিকে এনেছে। তৃণমূলের ভরাডুবির পর ভেঙে খান খান দল। পরিষদিয় দল থেকে লোকসভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সব রাশ চলে গিয়েছে। তৃণমূলের বিধায়ক থেকে সাংসদ সবদিকে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানালেন যে, তাঁদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে। এনসিপিআই-এর ফেসবুক পেজে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের প্রত্যেককে স্বাগত জানানো হয়েছে। একটি পোস্টে এনসিপিআই-এর তরফে একটি গ্রাফিক পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে যে, লোকসভার সাংসদ সংখ্যার বিচারে তারাই পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম দল। ওই গ্রাফিকে দেখা যাচ্ছে, এই রাজ্যে বিজেপির ১২ জন লোকসভার সাংসদ রয়েছেন। তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৮। কংগ্রেসের এক। লোকসভায় এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০। এই গ্রাফিকের সঙ্গে লেখা হয়েছে, “লোকসভায় ২০টি আসন নিয়ে এনসিপিআই এখন সংসদীয় শক্তির বিচারে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম শক্তি। জাতীয় স্তরে রাজ্যের কণ্ঠস্বর।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিন কার্যত অচেনা একটি দল হঠাৎ করেই জাতীয় স্তরে আলোচনায় চলে এসেছে বিদ্রোহী সাংসদদের যোগদানের কারণে। ফলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করছে এনসিপিআই। তথ্য অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক দলটির প্রধান কার্যালয় হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার হাটগাছে গ্রামে অবস্থিত। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, আদতে ত্রিপুরায় আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক দলটির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন হাটগাছারই বাসিন্দা শিউলি কুণ্ডু।
