ওয়েব ডেস্ক: মহারাষ্ট্র দিবসে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা করলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ (Devendra Fadnavis)। চালু হয়ে গেল মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের (Mumbai-Pune Expressway) ‘মিসিং লিঙ্ক টানেল’ (Missing Link Tunnel)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) এই অত্যাধুনিক সুড়ঙ্গটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে চওড়া আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল’ (Widest Underground Tunnel) হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness World Records)।
ঘাট অঞ্চলের আঁকাবাঁকা রাস্তার বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়েছে ৮.৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গটি, যেটি প্রস্থে প্রায় ২৩ মিটার। বলা বাহুল্য, বিশ্বের কোনও সুড়ঙ্গ পথ এতটা চওড়া নয়। সবচেয়ে চওড়া ভূগর্ভস্থ টানেলের মর্যাদা এনে দিয়েছে। এই টানেল তৈরির ফলে মুম্বই থেকে পুণে যাতায়াতের সময় প্রায় ৩০ মিনিট কমে যাবে এবং দুর্গম পাহাড়ি ঘাট অঞ্চলের যানজট থেকেও মুক্তি মিলবে বলে দাবি ফড়নবিশ সরকারের।
আরও পড়ুন: মর্মান্তিক দুর্ঘটনা জম্মুতে! শুরু উদ্ধারকাজ
লোনাভালা হ্রদের নীচ দিয়ে নির্মিত এই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ মোটেও সহজ ছিল না। ঘাট অঞ্চলের পাথর কাটা থেকে শুরু করে কংক্রিটের কাজ এবং জটিল প্রযুক্তির ব্যবহার- সবই কাজে লাগানো হয়েছে এই সুড়ং নির্মানে। জানা গিয়েছে, সাহ্যাদ্রি পর্বতমালার কঠিন ভূপ্রকৃতিতে প্রায় ৮৫ লক্ষ টন পাথর খনন করা হয়েছে এবং প্রায় ৭,৬০০ টন ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুটি পাঁচ লেনের সমান্তরাল সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিটির প্রস্থ বিভিন্ন অংশে ২২.৩৩ মিটার পর্যন্ত। এছাড়াও টাইগার ভ্যালির উপর ১৮০ মিটার উচ্চতায় ভায়াডাক্ট সেতুও নির্মিত হয়েছে। পুরো ‘মিসিং লিঙ্ক’ প্রকল্পটি ১৯.১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডর জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে খালাপুর থেকে খোপোলি পর্যন্ত ৫.৮৬ কিলোমিটার রাস্তা ছয় লেন থেকে আট লেনে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও ২০১৫ সালে তৎকালীন বিজেপি-শিবসেনা সরকারের আমলে এর কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুম্বই-পুণে সংযোগে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
দেখুন আরও খবর:
