ভোটের আগে কত কথা শুনেছিলাম আমরা এমনকি ২০২৪-এও, বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন শীতলকুচি করে দেব। ফলাফল বদলেছে? এবারেও ভোটের আগে কত ছবি, কত সেনা চলেছে সমরে, কিন্তু এমনকি বিজেপি মহলেও খবর ১৫২টা আসনে ৬০ পেরিয়ে ৭০ হওয়াও মুশকিল। তো গড়েই যদি এই হাল হয়, তাহলে এর পরের দফায় কী হবে? আসুন একটু ইতিহাসের পাতাগুলো নেড়েচেড়ে দেখি।
৫২-র পরে ৫৭ বা ১৯৬২ আসতে আসতে দেশের বহু জায়গাতে বহু রাজ্যে কেন্দ্রের শাসক দলের বিরোধীরা তাদের শক্তি বাড়াচ্ছিল, রাজ্য সরকারে আসছিল, কংগ্রেস ধীরে ধীরে তার জমি হারাচ্ছিল, কিন্তু নির্বাচন জেতার জন্য শাসক দল সে কেন্দ্রেই হোক বা রাজ্যেই হোক- প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে, তাদের রিসোর্সকে ব্যবহার করেছে, তখন কমিউনিস্ট পার্টি পুরানো খবরের কাগজে আলতা দিয়ে পোস্টার লিখত, ওদিকে ছাপা রঙিন পোস্টার আসত শাসক দলের প্রার্থীদের জন্য, শাসক দলের প্রার্থীদের এক্কেবারে গোছা করে ক্যাশ টাকা দেওয়া হত। এসব তো ছিল। কিন্তু তাতে তো কোনও অনিবার্য পরিবর্তনকে আটকানো যায়নি। কংগ্রেস হেরেছে, আবার ফিরেছে, বিজেপি এসেছে, বিজেপি হেরেছে। নির্বাচন ছিল এক বিরাট রাজনৈতিক কর্মকান্ড আর আমরা তাকিয়ে থাকতাম জনগণেশের সেই প্রচন্ড কৌতুকের দিকে, তখনও ভোর হয়নি, খবর এসেছিল ইন্দিরা গান্ধী হেরে গিয়েছে, কে হারাল? নাম জানতে এক দিনের বেশি সময় লেগে গিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীও হেরেছিলেন, সঞ্জয় গান্ধী হেরেছিলেন। তার পরে আরও কত পালা বদল দেখেছি রাজ্যে বা কেন্দ্রে। ক্রমশ নির্বাচন আরও জটিল হয়েছে, জাত পাত, ধর্ম, টাকা মিলিয়ে এক ঝাঁজালো ককটেল, তার কমপ্লেক্স নেচার আমাদের ভাবিয়েছে। কিন্তু এসব পাল্টেই গেল ২০১৪ থেকে, আমূল পালটে গেল।
সারা বাংলার সামান্য রাজনীতি খবর নিয়ে আলোচনা করে, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন, তাঁরা এক্কেবারে ১০০ শতাংশ শিওর যে বিজেপি ১২০ পেলেই বিজেপির সরকার হবে, অনেকে বলছেন ১২০’ও নয়, ১০০-র উপরে গেলেই সরকার হবে বিজেপির। মানে? মানে বাকি ৪৮ জনকে কিনে নেওয়া হবে। হ্যাঁ, সাংবাদিক হিসেবে বিজেপির নেতাদের সঙ্গে কথা হয় বৈকি, তাঁরা তো খুব জাঁক করেই চোখ নাচিয়ে বলেন, কী বলছেন ১১৫? তাহলে তো সরকার আমাদের, অমিত শাহ আছে তো। আমাদের সংবিধান বলছে, আরে ধুর সংবিধান রাখুন, যা চলছে সেটা বলুন। মানে এই যে নির্বাচন, তার প্রার্থী, তার প্রচার, মানুষের ভোট, মানুষের নির্বাচিত সরকার এসব আপাতত এলেবেলে ব্যাপার। নির্বাচনে জেতা নয়, ১৪৮ পার করা নয়, বঙ্গ বিজেপির কাছে আপাতত টার্গেট হল ভাই, তোদের ৭৭ থেকে সংখ্যাটা বাড়িয়ে ১০৫-১১০-১১৫-তে নিয়ে যেতে হবে, ব্যস, সেটুকু করে তোরা নাকে তেল দিয়ে টেল তুলে ঘুমো, বাকিটা অমিত শাহ দেখে নেবেন। তাই আগেই বলি ২৯৪টা বিধানসভার আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবার জন্য ১৪৮ পাবার জন্যই বিজেপি লড়ছে, এমনটা যাঁরা ভাবছেন তাঁরা জেনে রাখুন, বিজেপির টার্গেট ১১৫-১২০, তারপর অমিত শাহ বাকিটা বুঝে নেবেন। এবারে আসুন সেই ১১৫-১২০টা আসন জেতার জন্য বিজেপি কী কী করেছে? গতবারে দল ভেঙেছিল, বুঝেছে দল ভেঙে কিছুই হবে না, মমতার দলে মমতাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট। একমাত্র শুভেন্দু যে কিছুটা কাজের, কিন্তু তা হলেও তার উপরেই নির্ভর করে দরিয়া পার করা যাবে না। ২০২৬-এ প্রস্তুতি তাঁরা নিয়েছিলেন প্রথমে তৃণমূলের প্রচার ব্যবস্থাটাকে ভেঙে দিতে, নির্বাচনের আগেই আই প্যাক দফতরে হানাদারি হয়েছিল, মানুষ দেখেছিল মমতার রুখে দাঁড়ানোর কাছে অসহায় বিজেপিকে, সেদিন খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা গ্রেফতার করতে পারতেন মমতাকে, এমনিতে সেটাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু তাঁরা প্রবল রি-অ্যাকশনের কথা ভেবেই সেই চিন্তা সরিয়ে রেখেছেন।
এবারে তাঁদের হাতে অস্ত্র তো ছিলই, এসআইআর আনা হল, কিন্তু সেখানেও বুথ ভলেন্টিয়ার ওই বিএলএ আর আইপ্যাকের কোওর্ডিনেটেড কাজ কর্মের ফলে খুব বিরাট কিছু করা গেল না, সব মিলিয়ে ৫৮ লক্ষের মত বাদ গেল, সারা ভারতের হিসেবে সেটা অর্ধেকেরও কম, কিন্তু সেটাই তো হবার কথা, আমার ধারণা সেই বাতিল হওয়া সংখ্যাটা দেখে আর তার সামান্য কিছু অ্যানালিসিস দেখে খুব সহজেই বিজেপি নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন যে কেস টা বাঁশ কেন ঝাড়ে হয়ে গিয়েছে। অতএব হাসিমুখ সে তালিকাকে রেখেই আনা হল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা, ৬০ লক্ষ বিচারাধীন করে দেওয়া হল, এবং প্ল্যানটা ছিল সেই বিচারকে ভোট পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া, যাতে নাকি ওই ৬০ লক্ষই তাঁদের ভোটের অধিকার হারায়। মমতা আদালতে গেলেন, বিচার বিভাগ থেকে একটা ব্যবস্থা হল, ৩৩ লক্ষ আবার জুড়ে গেল, ২৭ লক্ষ ফিরে গেল, বলা হল ট্রাইবুনাল আছে, সেখানে বিচার হবে। কিন্তু কবে? কেউ জানে না। এখন জানা গেল তাঁদের বিচার চলবে, কিন্তু তাঁরা ভোট দিতে পারবে না। ইন ফ্যাক্ট বিচারপতিরা খুব ভালো ভালো কিছু কথা বলে শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখলেন এই ২৭ লক্ষ প্লাস আগের বাতিলের থেকে যে ৮ লক্ষ মানুষ আরও আবেদন করেছেন তাঁদের ভোটের অধিকারকে। বিচারপতি বললেন, আই কোট, “আমরা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ভোটার তালিকার বিশুদ্ধতা যাচাই করার অনুমতি দিয়েছি। এসআইআর সংক্রান্ত আপনার মূল ইসিআই বিজ্ঞপ্তিতে ২০০২ সালের তালিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু আপনার যৌক্তিক অসঙ্গতিপূর্ণ তালিকা বাতিলের কারণ হিসেবে ২০০২ সালের তালিকা ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। আপনার বিজ্ঞপ্তিটি এমন ব্যক্তিদের স্পর্শ করেছে, যাঁরা ২০০২ সালের তালিকার সাথে সম্পর্কিত। ২০০২ সালের তালিকাই হলো মানদণ্ড। আপনার চূড়ান্ত তালিকায় আপনি ২০০২ সালের তালিকার সদস্যদের বাদ দেননি। যখন বিহার এসআইআর নিয়ে যুক্তি-তর্ক চলছিল, তখন ইসিআই-এর বক্তব্য ছিল, ২০০২ সালের তালিকার সদস্যদের কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনুগ্রহ করে বিহার মামলায় আপনার লিখিত বক্তব্য দেখুন। আপনি বলেছিলেন ২০০২ সালের ভোটারদের নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” মানে খুব পরিস্কার, বিহারে যে ভিত্তিতে মানুষের নাম ভোটার তালিকাতে রাখা হয়েছে, এখানে সেটা কেন করা হল না?
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | শুভেন্দু, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার মিলেও বাংলা দখল করা দূরস্থান, বাগেও আনতে পারছে না
তো নির্বাচন কমিশনের উকিল কি তার কোনও উচিত জবাব দিতে পেরেছেন? না। এর পরে ওই বিচারকই আবার বলেছেন, আই কোট, “যদি দিনে ১০০০ নথি খতিয়ে দেখা হয়, আর নির্ভুলতার হার যদি ৭০ শতাংশ হয়, তবে সেই কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করা উচিত। সুতরাং, ভুলের অবকাশ থাকবেই এবং আমাদের একটি শক্তিশালী আপিল ফোরাম প্রয়োজন। এই অধিকার অব্যাহত থাকতে হবে। আসন্ন নির্বাচনের উত্তেজনায় আমরা অন্ধ হয়ে যাচ্ছি। যে দেশে আপনি জন্মগ্রহণ করেছেন, সেখানে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, আবেগঘনও।” মানে ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ বাদ মানে ৪৫ শতাংশ বাদ গিয়েছে, যা নিশ্চিতভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বেই, আর ভোটের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাঁ, এটাও বিচারপতি গতকাল বলেছেন। এর পরেও তাঁরা বলেছেন যে, কিন্তু এই নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের ফ্রিজ করা ভোটার লিস্ট ধরেই হবে, মানে ৩৫ লক্ষ বৈধ ভোটার, যাঁদের ২৭ লক্ষের ২০০২ তালিকাতেও নাম আছে, তাঁদের বাদ দিয়েই নির্বাচন হবে। মানে এই গোটা প্রসেসটাকে এক্কেবারে ঘাড়ের উপরে ফেলে বিচার বিভাগকে দিয়েও বলিয়ে নেওয়া যে, আপাতত আর কিছুই করা নেই, সেই বন্দ্যোবস্ত করেছে বিজেপি। কেন? খুব সোজা টার্গেট সংখ্যালঘু ভোট ব্যঙ্ককে কিছুটা হলেও কমানো।
আবার এই গোটা প্রসেসে যদি পুরুষ আর মহিলাদের ভোট কাটার হার দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে মহিলাদেরই ভোট বেশি কেটেছে, সেটাও কিন্তু ওনাদের টার্গেট অনুযায়ীই হয়েছে, ২০২১-এ পুরুষ ভোটারদের ৪ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছিল তৃণমূল, কিন্তু ১০ শতাংশ বেশি পেয়েছিল মহিলা ভোট। মানে প্রথমে মুসলমান ভোট, ২০২১-এ যার ৭৫ শতাংশ পেয়েছে তৃণমূল, সেটাকে আঘাত করা, তার পরে মহিলাদের ভোট যা নাকি পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি পড়েছে তৃণমূলে সেটাকেও সামাল দেবার চেষ্টা করা। কে করছে? নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ। হ্যাঁ, এটা তো বিজেপি করছে না, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যার এক স্বাধীন সত্তা থাকা উচিত, তাঁরা করছেন। ওনারা বলছেন, কই বিহারে তো একমাত্র ২০০২ সালে নাম থাকলেই তাঁকে ভোট দিতে দেওয়া হয়েছে, এখানে হল না কেন? কিন্তু এর পরেই বলা উচিত ছিল তাহলে এই ২৭ লক্ষ মানুষকে ভোট দিতে দিন, না সেই অর্ডার মহামান্য বিচারপতিরা দেননি। টাকা পয়সার কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। কেবল আগে বলা একটা পরিসংখ্যান আবার মনে করিয়ে দিই, ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তের ফলেই দু’টো সেমিকন্ডাক্টার ইউনিটের বরাত পেলেন টাটা কোম্পানি, ভর্তুকি ৪৪২০৩ কোটি টাকা, ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারিতে, এবারে ওই ২০২৪-এর এপ্রিলে ও টাটা কোম্পানি বিজেপিকে ৭৫৮ কোটি টাকা ইলেকশন ফান্ডে দান করেন। সোজা হিসেব। এবারে এই টাকা আসবে বর্ষার মত ঝরে পড়বে, আমরা দেখছি। আরও টাকা আছে, ওই ৩৮-৪০ জন বিধায়ক কেনার জন্য। মানে টাকা দিয়েই নির্বাচনকে অর্থহীন করে তোলার ব্যবস্থা করেছে বিজেপি।
আসুন মিডিয়ার ক্ষেত্রে, ন্যাশনাল মিডিয়ার ৯০ শতাংশ, কোনও না কোনওভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, এটা নতুন খবর নয়, আদানি, আম্বানি, সুভাষ চন্দ ইত্যাদিদের হাতে দেশের ৯০ শতাংশ ন্যাশনাল মিডিয়া আছে। প্রিন্টেও বিজ্ঞাপন দিয়েই বশে রাখা হয় আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে ইডি আছে, সিবিআই আছে, সবাই জানে। এমনকি সংসদকেও ব্যবহার করছে এই বিজেপি। এখন সংসদের অধিবেশন হবার কথা নয়, চার রাজ্যের ইলেকশন চলছে, কিন্তু তাঁরা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে চান, বাংলার ভোটের আগে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করিয়ে যেটুকু মাইলেজ পাওয়া যায়। যেদল ২০২৬-এ মহিলা সংরক্ষণের কথা বলে ২৯৪টা আসনে ২৮ জন মহিলা প্রার্থী, মানে কমবেশি ৯ শতাংশ মহিলা প্রার্থী দেয়, সেই দলই সংসদে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলে বিল আনছে। তাও তো এটা পশ্চিমবঙ্গ বলে ২৭, নাহলে সেই সংখ্যা উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাত বা মধ্যপ্রদেশে আরও কম। কিন্তু ওই যে সম্ভাব্য সবকটা কাঠামোকে ব্যবহার করতে হবে নির্বাচন জেতার জন্য, থুড়ি জেতাও নয়, ২৯৪-এ ১১৫-১২০টা আসন জেতার জন্য। হ্যাঁ, লড়াইটা বড্ড অসম, ভয়ংকর রকমের এক অসম লড়াই, যার একদিকে আছে নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া, বিজেপির টাকা, বিচার বিভাগের দীর্ঘসূত্রিতা, এমনকি সংসদ, যে সংসদ বিরোধীদের নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচ করার দাবি খারিজ করে কিন্তু নির্বাচন চলাকালীন আচমকাই মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিশেষ অধিবেশন বসাতে রাজি হয়ে যায়। আর অন্যদিকে রাজ্যের বিজেপি বিরোধী দল, রাজ্যের তৃণমূল সরকার, তৃণমূল দল।
কিন্তু এরপরেও কি তৃণমূলকে হারানো যাবে? আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখুন, সেরকম কি মনে হচ্ছে? বিজেপির আনা এসআইআর দু’টো কাজ করেছে- (১) একটা ১৫ বছরের সরকারের বিরুদ্ধে অ্যান্টি ইনকমব্যান্সির বিরাট আলোচনাকে গড়ে মাঠে পাঠিয়ে দিয়েছে ঘাস খেতে, চতুর্দিকে আলোচনা শুধু এসআইআর। হ্যাঁ, ১৭-২০ লক্ষ বৈধ মুসলমান ভোটার বাদ পড়েছেন, কিন্তু তারপরেও যাঁরা বাদ পড়েছেন সেই পাড়ার, সেই পরিবারের, সেই তাঁদের বন্ধু-বান্ধবদের ভোট আর অন্য কোথাও যাবার রাস্তা বন্ধ করেছে বিজেপি নিজেই। অন্যদিকে হিন্দু বৈধ ভোটারদের এক বড় অংশ হল রাজবংশী, আদিবাসী, সেই ভোটারদের বাড়ির লোকজন, পরিচিত বন্ধুবান্ধব ইত্যাদিরা হুলিয়ে ভোট দেবে বিজেপির বিরুদ্ধে। (২) বিজেপির এক বিশাল ভোট গিয়েছিল বামেদের তরফ থেকেই, বামেদের উত্থান সেই ভোটকে কাটবে। হ্যাঁ, সেই বাম ভোটের একটা অংশ ফিরছে, তাতে কতজন বাম প্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারবেন জানি না, কিন্তু তাঁরা বিজেপির ‘বাড়া ভাতে ছাই’ দেবেন। খুব কম করেও এরকম ২০-২৫টা আসন তো আমি এখনই দেখতে পাচ্ছি। ভোটের পরে বিজেপি বুঝতে পারবে এই অঙ্ক, এবং এটা হতেই পারে বাংলার রাজনীতিতে বামাদের প্রাক উত্থান অধ্যায়। (৩) এখনও সেই ভোট যা তৃণমূলকে জেতায় তা অক্ষুণ্ণ। প্রথমটা হল মহিলা ভোট, বিজেপি যত পুরুষদের ভোট পায়, তৃণমূল তার চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি পায়, কিন্তু মহিলাদের বেলা এই ফারাক ১০ শতাংশ। কেন? অনেকের মনে হতেই পারে এটা কেবল ওই লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকেই আসছে। তাঁদের বলি খেয়াল করুন, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থসাথী কার্ড-এ পরিবারের বয়স্কা মহিলাদের নাম থাকা, এই সব কিছু মিলে এক নারী ক্ষমতায়নের ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে তৃণমূল সরকার। হ্যাঁ, এক ধরণের আত্মসচেতনতা, এক ধরণের আত্মনির্ভরতা এনেছেন নারীদের মধ্যে, সেটাই মমতার পক্ষে যাচ্ছে বার বার, এবারেও তার আলাদা কিছু হবে না। এবং মুসলমান ভোট, হ্যাঁ, মমতা এবারেও সংখ্যালঘু ভোটের ৭৫-৭৬ শতাংশ ভোট পাবেন।
সব মিলিয়ে তৃণমূল ৪৬-৪৭ শতাংশ ভোট ধরে রাখবে, আর এবারের ফলাফল বার হলে আমরা ২০২১-এর জলছবিই দেখতে পাবো। চেয়ারে দুলতে দুলতে যে ভোট পন্ডিত ভূমিকম্পের আগাম সূচনা দেখতে পাচ্ছেন সেটা ওনার রকিং চেয়ারের দুলুনি, বাংলার ভোট এবারে এক অসম লড়াই, কিন্তু সেই অসম লড়াইয়েও পরিবর্তনের ছায়া দেখতে পাচ্ছি না।
দেখুন আরও খবর:
