ওয়েব ডেস্ক : দিল্লিতে (Delhi) একদিকে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদদের (TMC MLA) বৈঠক চলছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। জল্পনা ছড়িয়েছে, এই বৈঠকের পরেই আলাদা ব্লক গড়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (OM Birla) বাড়িতে গিয়ে সই করা চিঠি দিয়ে আসবেন ‘বিদ্রোহীরা’। এর মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) একটি চিঠি পৌঁছল স্পিকারের কাছে। সূত্রের খবর, চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে তৃণমূলের কোনও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি দেওয়া না হয়!
ভূপেন্দ্রর বাড়িতে বিদ্রোহীদের বৈঠকের মাঝে রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে অভিষেকের চিঠি নিয়ে হাজির হন সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad) এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose)। চিঠি দিয়ে বেরিয়ে কীর্তি-সাগরিকা জানান, আলাদাভাবে গোষ্ঠী তৈরি হবে তা অসাংবিধানিক ও বেআইনি হবে। তবে স্পিকার তাতে মান্যতা দিলে আইনি লড়াইয়ের কথা জানান তাঁরা।
আরও খবর : দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকের আগে পুরনো মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন, এড়িয়ে গেলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী
সূত্রের খবর, অভিষেক (Abhishek Banerjee) লোকসভার স্পিকারকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, তৃণমূলের বেশ কিছু সাংসদ নিজেদেরকে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদন যাতে গ্রহণ না করা হয় সেই আবেদন করেছেন তিনি। সঙ্গে জানিয়েছেন, লোকসভায় দলের নেতা ও হুইপ কেবলমাত্র দলের সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই নিযুক্ত হন। কিন্তু, সাংদরা অন্য গোষ্ঠী বানিয়ে পৃথক দলের দাবি জানাতে পারেন না। চিঠিতে অভিষেক ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল মামলায় শীর্ষ আদালতের রায় তুলে ধরেছেন। বলেছেন, রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাঙনের স্বীকৃতির বিধান আর কার্যকর নেই। এছাড়া জানিয়েছেন, দলত্যাগ-বিরোধী আইনের লঙ্ঘন ঘটলে দল পদক্ষেপ করতে পারবে।
চিঠি জমা দিয়ে বেরিয়ে সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose) জানিয়েছেন, “আমরা লোকসভার স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) একটি অবিভাজ্য দল। আপনারা লোকসভার ভেতরে কোনও আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করতে পারেন না। এটি সংবিধান বিরোধী। আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙতে চান এবং লোকসভার ভেতরে একটি আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করতে চান, তা সংবিধান বিরোধী। সংবিধান এর অনুমতি দেয় না। এটি আইনের পরিপন্থী। এটি আপনাদের নৈতিক দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। দল যখন হেরে যায়, তখন আপনারা সেই দল, সেই নেতা এবং সেই প্রতীককে ত্যাগ করেন, যার ওপর ভরসা করে আপনারা জিতেছিলেন।”
কীর্তিও (Kirti Azad) বলেন “বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, দশম তফসিলির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও উল্লেখ করা হয়েছে, দলের মধ্যে কোনও ভাঙন বা বিভাজন হতে পারে না। মহারাষ্ট্রে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল। তাই, আমরা এই একই বিষয়ে এখানে একটি আবেদন জানাতে এসেছি। আমরা স্পিকারের কাছে আবেদনপত্রটি জমা দিয়েছি। আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে স্পিকার নিয়ম অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেবেন, ঠিক যেমনটা তিনি এযাবৎকাল করে এসেছেন।”
দেখুন অন্য খবর :
