মাঝরাতে সার্কিট হাউস ছাড়ার নোটিশ! সুপ্রিম কোর্টেও জরুরি শুনানির আবেদন থেকে স্বস্তি পেলেন না মহুয়া মৈত্র

Must Read

নয়াদিল্লি: কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউস থেকে গভীর রাতে ঘর খালি করার নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে সোমবার শীর্ষ আদালতে জরুরি ভিত্তিতে মামলাটির শুনানির আবেদন জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্ট থেকেও কোনও স্বস্তি পেলেন না কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের তরফে তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝরাতে কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি উল্লেখ করেন মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী। আইনজীবীর বক্তব্য, একজন নির্বাচিত সাংসদকে গভীর রাতে সার্কিট হাউস ছেড়ে যেতে বলা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। শুধু ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, এই ঘটনায় সাংবিধানিক অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও খবর : গরুর প্রস্রাব থেকে তৈরি হত ‘ইন্ডিয়ান ইয়েলো’! ভ্যান গঘের ছবিতেও ব্যবহার, জড়িয়ে বাংলার ইতিহাস

মহুয়ার আইনজীবীর আরও অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারে তাঁকে সার্কিট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ অগাস্ট। সেই সময় কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, গভীর রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাই কোর্টের সুরক্ষা নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁকে মাঝরাতে কার্যত হেনস্থা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে সার্কিট হাউসের বাইরে একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ।

এরপরই আইনি পথে হাঁটেন মহুয়া। তাঁর আইনজীবীর দাবি, প্রশাসনের এই আচরণ একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সাংবিধানিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। তাই বিষয়টির দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। এমনকি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে আদালতে সওয়াল করা হয়।

তবে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির সেই আবেদনকে গুরুত্ব দেয়নি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। মামলাটি উল্লেখ করা হলে প্রধান বিচারপতি জানান, “আমরা এই আবেদন গুরুত্ব দিচ্ছি না।” ফলে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে আপাতত কোনও আইনি স্বস্তি পেলেন না মহুয়া মৈত্র।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। মহুয়ার অভিযোগ, হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে মাঝরাতে সার্কিট হাউস ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন গুরুত্ব না পাওয়ায় মামলাটি আরও রাজনৈতিক ও আইনি তাৎপর্য পেয়েছে। এখন মহুয়া মৈত্র এই বিষয়ে পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Latest News

ইরান-সৌদি-আমিরশাহির বিরোধের মাঝেও বড় সাফল্য ভারতের

ওয়েব ডেস্ক :ব্রিকসের (BRICS Summit) যৌথ বিবৃতি ঘিরে তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য তৈরি করতে সক্ষম হল ভারত।...

More Articles Like This