কলকাতা: দুপুর নেমে এল সন্ধে। আকাশ কালো করে শহরে শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। সঙ্গে অন্তত ৬০-৭০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়। কলকাতা (Kalbaisakhi in Kolkata)-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে (Rain Kalbaisakhi Districts of West Bengal) শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল আকাশের মুখ ভার। সেই সঙ্গে ছিল অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। দুপুরেই নামে ঝেপে বৃষ্টি।কিছুক্ষণের বৃষ্টিতেই রাস্তায় জমেছে জল। তবে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে গণপরিবহণ। দমদমে ২টো ২৯ মিনিট থেকে ২টো ৩০ মিনিটের মধ্যে ঝড়ের গতি হয়েছিল ৭৪ কিলোমিটার। ঝড়ের আউট্রাম ঘাটের কাছে আম কুড়োতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে শেডের একাংশ উড়ে গিয়েছে। কবি সুভাষে মেট্রো ট্র্যাকে গাছের ডাল পড়েছে বলে খবর।ঝড়ের তাণ্ডবে মধ্যমগ্রাম স্টেশনে ওভারহেডের তার ছিঁড়ে আপাতত শিয়ালদহ-বারাসত শাখায় বন্ধ ট্রেন চলাচল। এছাড়া শিয়ালদহ-ক্যানিং শাখাতেও রেল পরিষেবা ব্যাহত।ঝড়ের কারণে গাছের ডাল ভেঙে চক্ররেলের ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ে। তাতেই আগুন ধরে বিপত্তি। প্রাণ হারান যুবক।

বৃষ্টিতে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বহু এলাকায় গাছ পড়ে বিপত্তি ঘটেছে। সল্টলেকে ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ ভেঙে দুর্ঘটনায় আহত দুই। রবীন্দ্র সরোবরেও গাড়ির উপর গাছ পড়েছে বলে খবর।শহিদ ক্ষুদিরাম মেট্রো স্টেশনে শেডের একাংশ উড়ে গিয়েছে। কবি সুভাষে মেট্রো ট্র্যাকে গাছের ডাল পড়েছে বলে খবর। তবে আপাতত এই স্টেশন মেট্রো যাতায়াত করে না বলে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু এর জেরে দুপুরে ২০ মিনিটের জন্য গিরিশ পার্ক থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার পর্যন্ত বন্ধ ছিল মেট্রো চলাচল। পরে অবশ্য তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।পরে অবশ্য তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে জল থইথই। আপাতত বন্ধ বিমান ওঠানামা। গলফগ্রিন, সল্টলেকের রাস্তায় গাছ পড়ায় গাড়ি যাতায়াত করতে পারছে না।শহরের একাধিক রাস্তায় গাছ পড়ে প্রবল বিপত্তি তৈরি হয়েছে। অটো, বাস চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। ইন্টারনেটের তারও ছিঁড়ে পড়েছে কোথাও কোথাও। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে পরিষেবা। রেড রোডে গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ।শিয়ালদহ ও হাওড়ার একাধিক শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ। একাধিক জায়গায় গাছ পড়ে গিয়েছে। স্টেশনে স্টেশনে প্রবল ভিড়। মধ্যমগ্রাম শাখায় গাছ পড়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:দুপুরেই কলকাতায় নেমে এল রাত, প্রবল বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গজুড়ে
ময়দানে এসএসকেএমের কাছে একটি গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ার কারণে গাড়ি চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হয়। গাছ ভেঙে পড়েছে রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জে, হরিশ মুখার্জি রোড, রিপন স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট মল্লিক বাজার, এজেসি বোস রোডে। ওই রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের দাপটে বেশ কয়েকটি হোর্ডিং, পোস্টার ছিঁড়ে পড়ে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার কিছু এলাকায় জল জমে। চাঁদনি চক, ঠনঠনিয়ার রাস্তায় জল জমে যায়। সাউথ সিটি মলে কাচ ভেঙে জল ঢুকে আসে।
শুক্রবার সকাল থেকেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছিল জেলায় জেলায়। দুপুর ২টো নাগাদ কার্যত অন্ধকার নেমে আসে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে। শুরু হয়ে প্রবল বৃষ্টি। বিপাকে পড়েছেন পথচলতি সাধারণ মানুষ। কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। কালবৈশাখীর দাপট চলেছে বেশ কিছুক্ষণ ধরে। রাজ্যের পাঁচ জেলায় তীব্র ঝড় ও তীব্র বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা। বজ্রপাতের আশঙ্কা। দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা নদিয়া পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কা। বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড়ো বাতাস বইবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্তকতা।
