কলকাতা: বর্ষার জোড়া দাপটে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ দুই প্রান্তই (Weather Update)। টানা বৃষ্টিতে শুক্রবার সকাল থেকে জলমগ্ন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। ফলে সড়কপথে শিলিগুড়ি (Siliguri) ও মিরিকের (Mirik) যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উত্তরবঙ্গ। সেই ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই ফের বৃষ্টির দাপটে উদ্বেগ বাড়ল পাহাড়ে। কয়েকদিনের লাগাতার বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে নদীগুলি। বালাসনের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুর একাংশ।
আরও পড়ুন: জল জীবন মিশন কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
এদিকে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক-সহ কার্শিয়াং এবং সংলগ্ন একাধিক এলাকায় ধস নামার খবর মিলেছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে পাহাড়ের একাধিক এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। বর্ষার পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বহু মানুষ এই সময়ে দার্জিলিং, মিরিক ও সংলগ্ন এলাকায় বেড়াতে গিয়েছেন। দুধিয়া রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অনেককেই সুখিয়াপোখরি হয়ে শিলিগুড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবে লাগাতার বৃষ্টি চললে সেই পথও কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন করে ধস বা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালেও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা বৃষ্টিতে ভিজেছে। সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রপাত-সহ প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
