ওয়েব ডেস্ক : নন্দীগ্রামের (Nandigram) বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের (Hasirani Rath) মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী রিজু ঘোষাল বলেন, প্রার্থীর দেওয়া তথ্যে কোনও অসঙ্গতি থাকলে রিটার্নিং অফিসার তা সংশোধন করে ফের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারেন। তিনি জানান, তাঁরা নির্বাচন স্থগিত করতে চাইছেন না বা অন্য কোনও দাবি জানাচ্ছেন না। শুধু তথ্যগত অসংগতি যাচাই করে দেখার আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেন, রিটার্নিং অফিসারের স্ক্রুটিনির সময়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। রিজু ঘোষাল জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, ৩২৯বি অনুযায়ী এই মামলার কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনির সময়ই আপত্তি জানানো উচিত ছিল। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে খতিয়ে দেখতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, এটি কোনও জনস্বার্থ মামলা নয়। মামলাকারী জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য শাখা। নির্বাচন ঘোষণার পর এই ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া যায় না। তথ্যগত ভুলের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলাকারীর তরফে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, কোনও ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর হলেও তিনি যদি ৭০ বছর উল্লেখ করেন, তাতে তাঁর বিধায়ক হওয়ার যোগ্যতা নষ্ট হয় না। একইভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও বিধায়ক হওয়ার পথে বাধা নয়। ফলে এই ধরনের বিষয়কে মনোনয়ন বাতিলের জন্য আইনি ইস্যু হিসেবে দেখা যায় না বলে জানান তিনি।
আরও খবর : জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতায় কংগ্রেসের মহামিছিল, ‘ভোট চোর’ স্লোগানে উত্তাল কলেজ স্ট্রিট
হাসিরানি রথের আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, মামলাকারীদের অভিযোগ হল মনোনয়নপত্র সঠিক নয়। কিন্তু যখন আপত্তি জানানোর প্রয়োজন ছিল, তখন তা করা হয়নি কেন? তিনি আরও বলেন, কেউ কবে স্কুল ফাইনাল পাশ করেছেন, সেই তারিখে ভুল থাকলেই মনোনয়ন বাতিল করা যায় না। এর পাল্টা রিজু ঘোষাল বলেন, তাঁরা একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। প্রার্থীর দেওয়া তথ্য অসংগতিপূর্ণ কেন, তা ব্যক্তিগতভাবে জানতে চাওয়া হয়নি। তাঁরা শুধু বয়সের বিষয়টি তুলে ধরেননি, বরং মনোনয়নপত্রে কোনও তথ্য ভুল রয়েছে কি না, সেই বিষয়টি যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের আর এক আইনজীবী ডি এস নাইডু জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি হয়েছিল এবং ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। সেই সময় কেউ আপত্তি জানাননি। প্রার্থী নিজেকে ৬০ বছরের বেশি বয়সি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের বিষয়কে সামনে রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা আদালতের গ্রহণ করা উচিত নয়। শেষে রিজু ঘোষাল বলেন, রিটার্নিং অফিসারের কোনও ত্রুটি থাকলে তাঁকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে। শুনানি শেষে মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
