ওয়েব ডেস্ক : তিরঙ্গা মিছিলের আগে নতুন করে উত্তেজনা দিল্লিতে (Delhi)। ককরোচ জবতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijeet Dipke) থাকার জায়গায় শুক্রবার দুপুরে পৌঁছে গেল দিল্লি পুলিশের একটি দল। মধ্য দিল্লির ঝান্ডেওয়ালায় ওই বাড়িতে প্রায় ১২ জন পুলিশকর্মীকে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে মহিলা পুলিশকর্মীর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে কেন পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিজিৎকে আটক করা হয়েছে কি না, কিংবা তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও দিল্লি পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এর আগে অভিজিৎ দীপকে আশঙ্কা (Abhijeet Dipke) প্রকাশ করেছিলেন, সিজেপি-র ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলের আগে তাঁকে আটক করা হতে পারে। শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। সেই কর্মসূচির আগেই তাঁর বাসস্থানে পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপি যে প্রতিবাদ চালাচ্ছে, তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
আরও খবর : পিএম কেয়ার্স নিয়ে তদন্তের আর্জি খারিজ লোকপালের
প্রকাশ্যে আসা ছবিতে দেখা গিয়েছে, কাঁধে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে বাড়িতে বসে রয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর পাশে বসে রয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক। অন্য একটি ভিডিয়োয় তাঁকে কিছু নথিতে সই করতেও দেখা যায়। সেগুলি শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সূত্রের দাবি, দিল্লি পুলিশ আইনের ২৯ নম্বর ধারায় তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ নাগরিকদের নির্দেশ দিতে পারে। তবে এই ধারায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ধরনের প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করার কথা বলা নেই।
সিজেপি-র দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। চলতি সপ্তাহে তাঁরা যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। যন্তর মন্তর বর্তমানে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান নয়। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছন অভিজিৎ দীপকে। রাতে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর অভিযোগ ছিল, নম্বরপ্লেটবিহীন কয়েকটি গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছে এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা তাঁর বাসস্থানের উপর নজর রাখছেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য সামনে আসেনি। জাতীয় পতাকা ওড়ানোকে অপরাধ হিসেবে দেখা হলে জেলে যেতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কথায়, “এই দেশের নাগরিক হিসেবে যদি আপনারা এটাকে অপরাধ বলে মনে করেন, তা হলে আপনারাই সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী।” তিনি আরও বলেন, “এই দেশে তিরঙ্গা ওড়ানোর জন্য যদি জেলে যেতে হয়, তা হলে আমরা তার জন্যও প্রস্তুত।”
