ওয়েব ডেস্ক : বীরভূমের পাথর ও বালি কারবারকে ঘিরে টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal Case) বিরুদ্ধে চলা আর্থিক তছরুপের তদন্তে ফের বড় পদক্ষেপ। এ বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার মহম্মদবাজার ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রাক্তন আধিকারিক সব্যসাচী মণ্ডল। শনিবার সিউড়িতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। দীর্ঘ জেরার পর তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
বর্তমানে ঝাড়গ্রাম কালেক্টরেটে ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত সব্যসাচী ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মহম্মদবাজারের বিএলআরও ছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই সময় টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ এবং ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ ব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকির যে চক্রের অভিযোগ সামনে এসেছে, তাতে সব্যসাচীর ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে।
টুলু মণ্ডল মামলায় (Tulu Mondal Case) এর আগেও সরকারি দফতরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গত মাসে মহম্মদবাজার বিএলআরও দফতরের কোষাধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ সাহা-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করে বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের দাবি, বিশ্বজিৎকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। টুলুর ঘনিষ্ঠ কর্মচারী কৌসর আলিকেও জেরা করার পর গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, টুলুর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কৌসর। তাঁর কাছ থেকে একাধিক ব্যাঙ্কের চেক বইও উদ্ধার করা হয়।
বীরভূমের মহম্মদবাজার ও নলহাটি-সহ একাধিক এলাকায় টুলু মণ্ডলের পাথর ও বালির ব্যবসার প্রভাব ছিল । অভিযোগ, ভুয়ো ডিসিআরের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছিল। টুলুর শ্যালক মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর থেকেই টুলু নিখোঁজ। তদন্তকারীদের অনুমান, তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। সম্প্রতি সিউড়ি জেলা আদালতে টুলুকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা এবং তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
