নিজেকে সুন্দর এবং সুস্থ রাখতে হাঁটা খুব দরকার। বিশেষ করে একটা বয়সের পর থেকে রোজকারের খাওয়া দাওয়া ঘুমের মতোই হাঁটা অভ্যেস করাও দরকার। রোজ নিয়মকরে দুবার কিংবা একবার ঘণ্টাখানেক হাঁটলে জিম-ফিটনেস সেন্টারের প্রয়োজন পড়বে না। শরীরচর্চার সব উপায়ের মধ্যে হাঁটাকে আপন করে নিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবার খাওয়ার পর ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাঁটুন, সর্বদা ফিট থাকবে এবং সেই সঙ্গে ওজন হ্রাস পাবে। এছাড়াও হাঁটার একাধিক উপকারিতা রয়েছে।
হজম ক্ষমতা বাড়ে:
আমরা যদি খাবার পরে হাঁটতে পারি তবে আমাদের হজম ক্ষমতা আরও ভালো হবে। রাতের খাওয়ার পরে অল্প হাঁটলে আপনার পেপটিক আলসার, অন্ত্র সিন্ড্রোম, ডাইভার্টিকুলার ডিজিজ, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসারের মতো সমস্যা থেকে দুরে থাকবেন।
ওজন কমায়:
প্রতিদিন খাবার খাওয়ার পরে প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটলে ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে হাঁটলে ১৫০ ক্যালরি পুড়ে যায়, এবং স্থূলত্ব হ্রাস করে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে ওজন কমাতে খাবার খাওয়ার পরে নিয়মিত জগিং করা উচিত।
ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রনে রাখে:
গবেষণা বলছে, খাওয়ার পরে হাঁটলে আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে। এ জাতীয় পরিস্থিতিতে যদি আপনি খাওয়ার পরে হাঁটেন তবে ওজন হ্রাসের পাশাপাশি রক্তের শর্করাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে ।
কমবে হৃদরোগের ঝুঁকি:
শারীরচর্চা কয়েক দশক ধরে হৃদয়ের পক্ষে উপকারী বলে জানা গিয়েছে। এটি গবেষণায় প্রমাণিতও হয়েছে। মার্কিন স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং হিউম্যান সার্ভিসেস বিভাগ এর মতে, খাবারের পরে ১০ মিনিটের হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
হাড় শক্ত হয়:
হাঁটা হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে। সকালে হাঁটতে হাঁটতে সূর্যের রশ্মিও শরীরে পড়ে, যার ফলে শরীর ভিটামিন-ডি পায়। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়াম থাকা হাড়ের রোগ এবং ব্যথায় আরাম দেয়।