29 C
Kolkata

৪৮ বছর পর খুলছে পুরীর ‘রত্ন ভাণ্ডার’! কী রহস্য লুকিয়ে আছে জগন্নাথ মন্দিরের এই গুপ্তকক্ষে?

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: ভারত তথা বিশ্বের রহস্যময় মন্দিরগুলির (Mysterious Temple) মধ্যে অন্যতম হল পুরীর (Puri) জগন্নাথ দেবের মন্দির (Jagannath Temple)। প্রসাদ রান্নার ঘর থেকে মন্দিরের ধ্বজা এবং ছায়া- সবেতেই জড়িয়ে রয়েছে একের পর এক বিষ্ময়। তবে পুরীর মন্দিরের আরেক নিগূঢ় রহস্য রয়েছে এর রত্ন ভাণ্ডারকে (Puri Ratna Bhandar) ঘিরে, যা বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে রয়েছে তালাবন্ধ অবস্থায়। তবে এবার প্রাচীন এই রহস্য উদ্ঘাটন করতে চলেছে সরকার। তবে এই কাজের জন্য মন্দিরের পুজো প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না বলেই জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, ওড়িশার (Odisha) জগন্নাথ মন্দিরের রত্ন ভাণ্ডারের বহুল প্রতীক্ষিত তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হচ্ছে আজ থেকে। প্রায় পাঁচ দশক পর এই প্রথমবার মন্দিরের অমূল্য সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষণ হতে চলেছে, যা ঘিরে প্রশাসন ও ভক্তমহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেবের অনুমতি নিয়ে মন্দির কমিটি, জ্যোতিষী ও ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে। জানা গিয়েছে, চৈত্র শুক্ল সপ্তমীতে যে শুভ লগ্নকে এই কাজের জন্য স্থির করা হয়েছে, তা শুরু হচ্ছে দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে।

আরও পড়ুন: এপ্রিলে ব্যাঙ্কে টানা ছুটি! তালিকা দেখে আগেই কাজ সেরে রাখুন

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন জেলা শাসক ট্রেজারি থেকে রত্নভাণ্ডারের চাবি সংগ্রহ করবেন এবং দিনের কাজ শেষে তা ফেরত জমা দেবেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় থাকবে দুটি দল। তিন সদস্যের একটি তত্ত্বাবধায়ক দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন এসজেটিএ-র প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পদী। পাশাপাশি ১০ সদস্যের একটি হ্যান্ডলিং টিমে থাকবেন জেমোলজিস্ট, স্বর্ণকার, ব্যাঙ্ক-মনোনীত বিশেষজ্ঞ, মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী সেবায়েত এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র আধিকারিকরা। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

পুরীর রত্ন ভাণ্ডারের এবারের তালিকা প্রস্তুতকরণে প্রথমবার ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি, যার মধ্যে রয়েছে ভিডিওগ্রাফি, ফটোগ্রাফি, থ্রিডি ম্যাপিং এবং ডিজিটাল ক্যাটালগ। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র সংস্কারের পর রত্নভাণ্ডারে আলাদা নিরাপদ চেম্বার তৈরি হয়েছে। ১৯৭৮ সালের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটি অলঙ্কারের যাচাই করা হবে। রত্নের মান নির্ধারণ করবেন জেমোলজিস্টরা, ঐতিহ্যবাহী নাম দেবেন স্বর্ণকাররা। ওজন, আকার, রত্নের বিবরণ নথিভুক্ত করা হবে এবং ই-ক্যাটালগ তৈরি হবে। তবে এই সম্পদের কোনো আর্থিক মূল্যায়ন করা হবে না।

১৯৭৮ সালে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে ৭২ দিন লেগেছিল। এবার ওড়িশা হাইকোর্ট তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বিশালতা ও সূক্ষ্মতার কারণে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত এসওপি অনুযায়ী এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

‘বিবেক দংশনে’ ভুগেই তৃণমূল ছাড়লেন সুজাতা মণ্ডল

ওয়েব ডেস্ক : বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তৃণমূল সরকারকে (TMC) হারিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি (BJP)। এর পরেই দলের বিরুদ্ধে...

More Articles Like This