দার্জিলিং: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগেই সামনে এল ভোটের এক ব্যতিক্রমী ছবি। ছবিটা পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে দুর্গম বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত রিম্বিক-লোধোমা সমষ্টির সামান্দেন কেন্দ্রের, যেখানে ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কর্মীরা (Poll Workers) রাঙভাং থেকে ঘোড়ায় করে ইভিএম (EVM) মেশিনসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছেনন। ৭,৫৪৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সামান্দেন এলাকায় মাত্র ১৯২ জন ভোটার রয়েছেন। আগে যেখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২১৫-এরও বেশি, সেখানে এসআইআরের ফলে নাম বাদ পড়ে বর্তমানে ১৯২ জন ভোটার অবশিষ্ট রয়েছেন।
সামান্দেনে পৌঁছাতে এখনও ঘোড়ায় করে সামগ্রী নিয়ে যেতে হয় এবং নির্বাচন কর্মীদের পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হতে হয়। কারণ এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত সড়ক পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। এই কারণেই সেখানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ঘোড়া ও খচ্চরের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন করাতে গিয়ে ভোট কর্মীরা খাবে কী? মূল্য তালিকা বেঁধে দিল কমিশন
গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দার্জিলিং থেকে রওনা হওয়া নির্বাচন কর্মীরা রাঙভাংয়ে একরাত কাটিয়ে আজ সকালে সামান্দেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। উঁচু নিচু পথ, জঙ্গল ও ছোট ছোট ঝরনা পার হয়ে তারা ইভিএম মেশিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘোড়ার পিঠে বেঁধে এই দুর্গম এলাকায় পৌঁছবেন। জানা গিয়েছে, রাঙভাং থেকে সামান্দেনের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পায়ে হেঁটে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এই পরিস্থিতিতে ঘোড়া ও খচ্চরই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এতসব প্রতিকূলতার মাঝেও নির্বাচন কর্মীরা প্রতিটি নাগরিকের কাছে ভোটাধিকার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, প্রতিদিনের জীবনেও তাঁরা যাতায়াতের চরম সমস্যার সম্মুখীন হন। অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও ব্যাপক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়ে এলেও এখনও সবটাই রয়ে গিয়েছে প্রতিশ্রুতির স্তরেই, বাস্তবতা এখনও সেখানে শুধু কল্পনামাত্র।
দেখুন আরও খবর:
