ওয়েব ডেস্ক: পয়লা বৈশাখের দিন বাংলার অর্থনৈতিক অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor RN Ravi)। এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই নাম না করে ‘লাটসাহেব’ তকমা দিয়ে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে ভোটের আবহে ফের একবার রাজ্যপাল বনাম নবান্ন সংঘাতের ইঙ্গিত স্পষ্ট হল রাজ্যের বুকে।
লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ষাটের দশকে দেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি অবদান ছিল বাংলার। শিল্প, সংস্কৃতি ও বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলে অগ্রণী এই রাজ্য আজ অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। আশির দশকে যেখানে মাত্র চারটি রাজ্যের আয় বাংলার চেয়ে বেশি ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। জাতীয় পুঁজিতে বাংলার অংশীদারিত্ব ১০.৬ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে বিজেপির মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড, কী বললেন স্মৃতি ইরানি?
এর কয়েক ঘন্টা পরই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে রাজ্যপালকে নাম না করে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার লাটসাহেব, যিনি সবচেয়ে বড় বাড়িতে থাকেন, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে আমাকে আক্রমণ করেছেন।” একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ নেই। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা—তবে কি মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় সরাসরি রাজ্যপাল? যদিও দু’পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য সংঘাত তেমন দেখা যায়নি। গত ১৩ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে ২১ মার্চ সাক্ষাৎও হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর।
দেখুন আরও খবর:
