নয়াদিল্লি: মালদহের কালিয়াচকের (Malda Kaliachak Incident) ঘটনায় ‘ক্ষুব্ধ’ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে শোকজ নোটিস। মালদহের পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসককেও শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্টও চেয়ে পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। কালিয়াচকের ঘটনাকে কর্তব্যে গাফিলতি বলে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, কেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত হবে না। কেন তাঁরা নিষ্ক্রিয় থাকলেন, তা-ও জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। বুধবার রাতে মালদহে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটক, ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘মোস্ট পোলারাইজড স্টেট’ বলে উল্লেখ সুপ্রিম কোর্টের৷
এসআইআর- এর তালিকায় নাম নেই, এর প্রতিবাদে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি।কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদহের কালিয়াচক। অভিযোগ, বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহিলা-সহ ৩ জন বিচারকও। গভীর রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে বিশাল পুলিশবাহিনী। সেই ঘটনায় আগেই রাজ্য পুলিশের ডিজি- র কাছে রিপোর্ট তলব করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার কড়া বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালতও।
আরও পড়ুন: ‘নির্বাচন বাতিল করার চক্রান্ত করছে বিজেপি,’ সাগরদিঘি থেকে হুঙ্কার মমতার
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এমনকী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সুপ্রিম কোর্টকে বিস্তারিত জানিয়ে একটি চিঠি দেন। এই ঘটনা বিচারকদের উপর ভয়ের প্রভাব ফেলবে বলেও হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন বলে মামলার শুনানিতে জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মুখ্যসচিব, DGP, DM, SP-কে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর।মালদহের পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসককেও শোকজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনায় শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনে ঘটনার তদন্ত সিবিআই কিংবা এনআইএ’কে দিয়ে করানো হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক রিপোর্টও চেয়ে পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। অন্যদিকে কমিশনকে একহাত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, জুড়িশিয়াল আধিকারিকদের নিরাপত্তা কমিশনের দায়িত্ব।পদক্ষেপ যা করা দরকার, তা কমিশনকে করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।
ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, শুধু বিচারকদের ভয় দেখানো নয়, এই ঘটনা আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করছে। পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের। শুধু তাই নয়, বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল বলেও পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতির। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ‘মোস্ট পোলারাইজড স্টেট’ বলে উল্লেখ সুপ্রিম কোর্টের৷আদালতের প্রশ্ন, ‘‘কেন জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে পারেনি? জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কমিশনের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন করুক৷ জুডিশিয়াল অফিসারদের পরিবার, সম্পত্তি সব সুরক্ষিত করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

