ওয়েব ডেস্ক : শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখার পক্ষে নয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বয়স নির্বিশেষে প্রত্যেকেরই ইন্টারনেট ব্যবহার ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ মিলিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত। তবে একই সঙ্গে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে বিচারপতিরা।
১৫ অক্টোবর বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি চন্দ্রনের বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’-সহ আবেদনকারীদের করা মামলার শুনানিতে বিষয়টি উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন সংস্থা শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়োর তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর ক্ষেত্রে আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না।
শিশুদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা পরস্পরের বিরোধী নয় বলে মন্তব্য করেছে আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্দিষ্ট বয়সের নীচে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই তারা অনলাইন জগৎ থেকে দূরে থাকবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বরং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা এবং যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর উপাদান দ্রুত সরিয়ে ফেলার উপর জোর দিয়েছে আদালত।
আরও খবর : সরকারি চাকরির মেয়াদ ১৫ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব কুমারস্বামীর!
অনলাইনে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদান বারবার ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেঞ্চ। আদালতের মতে, ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া রুখতে কর্তৃপক্ষ এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির আরও আন্তরিক উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ধরনের উপাদান প্রচার ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও রকম ছাড় দেওয়া যায় না বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত নিশ্চিত আপত্তিকর উপাদানের ডিজিটাল পরিচিতি এবং ওয়েব ঠিকানা সেখানে নথিভুক্ত করা হবে, যাতে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা যায়। পাশাপাশি, প্রযুক্তির সাহায্যে একই ধরনের ছবি বা ভিডিয়ো শনাক্ত করা, ওয়েব ঠিকানার তালিকা তৈরি এবং আপত্তিকর উপাদান অপসারণের জন্য নির্দেশিকা ও কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে আদালত।
আদালতের বক্তব্য, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
