কলকাতা: বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া মোটের উপর শান্তিতে মিটেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)।এখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন? ভোট মিটতেই বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোলের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট শেষ হতেই এনিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে পরিবর্তনের পাল্লা সামান্য ভারী। এসব উড়িয়ে অবশ্য চতুর্থবার বড়সড় ব্যবধানে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ৯ মিনিটের ভিডিও বার্তায় তাঁর সাফ কথা, ”ছাব্বিশে আমরা ২২৬ আসন পাব, সেটা ২৩০-ও হতে পারে।”
এবার বঙ্গজয়ের লক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থেকে বিজেপির একডজন মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় জয়ের মরিয়া হয়ে ডেইলি প্যাসেঞ্জার করেছে। ইতিমধ্যেই দু’দফা নির্বাচন শেষে হওয়ার পরেই সন্ধ্যা থেকে বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষাতেই বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যায়, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগজিট পোল নিয়ে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। তাতে বড় দাবি করে মমতা বলেন, ২৯৪টির মধ্যে ২২৬টি আসন পাবে তৃণমূল। ভিডিয়োবার্তায় তিনি রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যাঁরা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আগামীকালই পুনর্নির্বাচন? কী বলছে কমিশন?
বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে এর পর মমতা বলেন, ‘‘আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। মমতা দাবি করেন, “তৃণমূল ২২৬টি আসন পেরোবে।আমরা ২২৬ ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।’’ ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং এখানকার পুলিশের বাহিনীর যৌথ অত্যাচার তৃণমূল কর্মীদের সহ্য করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা।এসব করেও তো ওরা মানুষের নিজের অধিকার প্রয়োগ থেকে মানুষকে আটকাতে পারেনি। আমার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য আছে যে সত্যিটা বেরলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে। সেটা আটকাতে ওরা মিডিয়াকে দিয়ে এসব সমীক্ষার রিপোর্ট বের করেছে। এটা ওদের শেষ চেষ্টা।
তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, ‘‘বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যাঁরা আমার হাতে ছিলেন না, তাঁরা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তাঁর শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্রং রুম পাহারা দেবেন বলে জানান। EVM মেশিন বদলে দেওয়ার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেন। তাই কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইছেন না মমতা। নিজের কেন্দ্রে স্ট্রং রুম পাহারা দেবেন বলে জানান। তৃণমূলের কর্মীদের বার্তা দেন, কেউ যেন কাউন্টিং হল থেকে না বেরোয়। ২ মিনিটের বেশি কোনও প্রার্থী যেন শৌচালয় বা খাবার খাওয়ার জন্য না বের হয়।
