10.4 C
New York

Fourth Pillar | একজিট পোল বনাম একজ্যাক্ট পোল

Must Read

একজিট পোলওলারা ইতিমধ্যেই তাঁদের খেলা খেলেছেন, ওনাদের খেলা হল একটা সংখ্যাকে এনে হাজির করা, সেই সংখ্যা কেন? সেই সংখ্যা কীভাবে এল? মেথডোলজি কী? কেউ জানে না। আজ আমি কিন্তু ভোটের হাওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তথ্যকে, হার্ড ফ্যাক্টকে সামনে রাখব, আমার কাছে থাকা হার্ড ইনফর্মেশনকেই সামনে রাখব। তো আসুন সেই ইনফর্মেশনগুলো রাখার আগে কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এই তথ্যগুলোকে আপনাদের সামনে রাখছি, সেগুলো নিয়ে কিছু কথা বলে নেওয়া যাক। প্রথমত, বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধরনটাকে বোঝা খুব জরুরি, বাংলাতে না দুম করে পরিবর্তন হয় না। ৫২ থেকে ৫৭ হয়ে ৬২-তে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে ক্রমশ কংগ্রেসের ক্ষমতা সমর্থন সংগঠন কমেছে, তার পরে কংগ্রেসের ভেতরে ভাঙন, বাংলা কংগ্রেস ইত্যাদি আর অন্যদিকে ধীরে ধীরে এক বাম ঐক্য গড়ে ওঠা ৬৭ থেকে ৬৯ এই বুঝিয়ে দিয়েছিল পরিবর্তন আসছে, বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম আর ৭২-এর ভোট লুঠ মিলে সেটা ৭৭ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছিল কংগ্রেস। দেখুন সারা দেশের মতো রাজ্যে ওই জরুরি অবস্থার বিরোধিতার সামনে থাকা জনতা দল কিন্তু রাজ্যের ক্ষমতায় এল না। এল কারা? যারা গোকুলে বাড়ছিল। হ্যাঁ, সেই বামেরা এবারে বামফ্রন্ট, ৭৭-এ তারাই ক্ষমতায় এল, কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসবে তাতে নতুনত্ব কিছুই ছিল না।

সেই ৭৭-এর পরের রাজনৈতিক পরিবর্তন এল ২০১১-তে। ২০১১-র পরিবর্তনের হিসেবটা বুঝতে গেলে আগে ওই ২০০৬-এর নির্বাচনী ফলাফলের দিকে চোখ রাখতেই হবে। এমনিতে ফলাফল কী ছিল? বামফ্রন্ট ২৩৫, তৃণমূল ৩১, কংগ্রেস জোট ২৪। এইটা হচ্ছে ওই আলোর ছবি যার পিছনে লুকিয়েছিল মেঘ। ধরুন ভোট পার্সেন্টেজ, ৫০ শতাংশ ভোট ছিল বামেদের, কিন্তু তৃণমূল আর কংগ্রেসের মিলিত ভোট ছিল ৪৫ শতাংশ। মানে ২৩৫ আর ৩৫ তো বটে, কিন্তু ভোটের ফারাক ৫ শতাংশ। এবং সেটাও পাটিগণিতে। মানে রাজনীতিতে ‘দুয়ে দুয়ে চার’ও হয় আবার ‘দুয়ে দুয়ে দুধ’ও হয়। কেমিস্ট্রি ম্যাটারস। তৃণমূল-বিজেপি কেমিস্ট্রি জমেনি, কিন্তু সেদিন তৃণমূল আর কংগ্রেসের জোটের রসায়ন ফাটাফাটি ছিল। কিন্তু তারও আগে দেখুন ওই যে ২৩৫, সেখানেও সমস্যা ছিল। ২০০৬-এ বামেরা ৫৩টা আসনে জিতেছিল যেখানে ভোটের মার্জিন ছিল ৯৭ থেকে ৪৫০৭, মানে ০.০৬ শতাংশ থেকে সাড়ে চার শতাংশের মধ্যে বামেরা জিতেছিল ৫৩টা আসন। TITAGARH, BELDANGA MANDIRBAZAR, CANNING WEST, DHAKURIA, DHAKURIA, BELGACHIA EAST, BASIRHAT, BASIRHAT, UTTARPARA, ITAHAR, KRISHNAGAR EAST, BADURIA, RANAGHAT WEST, HARIHARPARA- এই আসনগুলো ১ শতাংশের কমে জিতেছিল। হ্যাঁ, এর মধ্যে সুভাষ চক্রবর্তী বা ক্ষিতি গোস্বামীর মতো মন্ত্রীদের আসন ছিল। বামফ্রন্টের মধ্যে কোনও আলাদা চিন্তা দেখেছিলেন এই সমস্ত আসন নিয়ে? ওরা ৩৫ আমরা ২৩৫-এর আলোয় ভাসছিল ব্রিগেড।

সেই ২০০৬-এর পরে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন এল ২০১১-তে, কিন্তু তার আগে ২০০৯-এ দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিষ্ণুপুর থেকে এক উপনির্বাচনে আচমকাই জিতে গেলেন মদন মিত্র, হ্যাঁ, সেই জামানাতে উপনির্বাচনে জয়। এদিকে কর্পোরেশন তৃণমূলের, তার পরে ২০০৯ লোকসভায় তৃণমূল ১ থেকে ১৯ হয়ে গেল, বামফ্রন্ট ১৫, তৃণমূল জোট ২৬, বিজেপি ১। এর পরের দু’টো বছর বুদ্ধদেবের মন্ত্রিসভা ছিল ‘লেম অ্যান্ড ডাক গভর্নমেন্ট’। সেদিন মহাকরণের অলিন্দে ওই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশকে দেখা গিয়েছে, স্যালুট করছে ওই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। হ্যাঁ, ছবিটা পরিস্কার ছিল ২০১১-তে এক্কেবারে ‘প্যারাডাইম শিফট’। কেন? (১) সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের আন্দোলন রাজ্যের প্রান্তিক মানূষজনদের, কৃষকদের, যাদের এক বড় অংশ মুসলমান, যে ভোট এক সময়ে কংগ্রেসের ছিল পরে বামেদের কাছে যায়, তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ল। বুদ্ধবাবুর এই শিল্পায়ন আরও অনেক বুঝিয়ে, আরও অনেক মানবিকভাবে হতে পারত, অথবা ২০০৬-এর গোড়াতেই বুলডোজার চালিয়ে চোখের সামনে এক শিল্প ছবি খাড়া করে দিয়েও হতে পারত, কিন্তু চরম সিদ্ধান্থীনতায় ভুগল সরকার। আর তার মধ্যেই নির্বাচন এসে গেল। (২) আমেরিকার সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করতে গিয়ে ইউপিএ থেকে সমর্থন তোলাটা ছিল হারাকিরি। সেদিন কংগ্রেসের সম্পূর্ণ সমর্থন না পেলে তৃণমূল এত কিছুর পরেও সরকার তৈরি করতে পারত না। কিন্তু বামেদের বা বলা ভালো প্রকাশ কারাতের অবিমৃশ্যকারিতার ফল পেল বঙ্গ সিপিএম। একেবারে ধস নামা যাকে বলে সেটাই হল।

তার মানে বাংলাতে পালাবদলের বহু আগে থেকেই সিগন্যাল আসে। এবারে এসেছে? পশ্চিমবঙ্গের ভোটের চালচিত্রে নজর দিন, বুঝতে পারবেন জলের মত আগামী দিনে কী হতে যাচ্ছে। ২০২১-এ তৃণমূলের ভোটের ফল যা হয়েছিল, ২০২৪-এর লোকসভাতে তার চেয়ে সামান্য ভোট কমেছে, এটা ঠিক, কিন্তু আপনি যদি বাংলার গত তিনটে লোকসভার ভোটের শতাংশের সঙ্গে বিধানসভার ভোটের একটা কমপারিজন করেন, তাহলে দেখবেন যে লোকসভার ভোটে বিজেপির ভোট কিছুটা বাড়ে আর বিধানসভার ভোটে কমে। হ্যাঁ, ২০১৯ তৃণমূল ৪৩ শতাংশ, বিজেপি ৪০ শতাংশ, ২০২১ বিধানসভাতে তৃণমূল ৪৮ শতাংশ বিজেপি ৩৮ শতাংশ; ২০২৪-এ তৃণমূল ৪৫ শতাংশ, বিজেপি ৩৬ শতাংশ। এটা কেবল এই রাজ্যে নয়, কেন্দ্রে মোদিজি আসার পরে প্রত্যেক রাজ্যের বিধানসভার তুলনায় লোকসভায় বেশি ভোট পেয়েছে। তো সেই তৃণমূল, যারা ২০২১-এ ৪৮ শতাংশ ভোট পেল, ২০২৪-এও যারা ৪৫ শতাংশ ভোট পেল, তাদের ভোট এই দেড় বছরে কমার মতো কোন এমন ঘটনা ঘটেছে? অন্যদিকে ২০২১-এ যে বিজেপি ৩৮ শতাংশ ভোট পেল, ২০২৪-এ যারা ৩৬ শতাংশ ভোট পেল, তারা হঠাৎ করে তাদের ভোট বিশাল বাড়িয়ে নেবার মত কী করেছে? রাজ্যে এমন কী হয়েছে যাতে শাসক দলের ভোট অনেকটা কমবে বা বিরোধী দলের ভোট অনেকটা বাড়বে? ধরুন দুর্নীতির কথা বলবেন, বলতেই পারেন, কিন্তু দুর্নীতি তো ২০২১-এও ইস্যু ছিল, প্রশাসনিক ব্যর্থতা? তাও ছিল। ২০২৪-এও ছিল, আরজি কর ছিল, সন্দেশখালি ছিল, শিক্ষা-চাকরি দুর্নীতি ছিল, একগুচ্ছ মন্ত্রী নেতারা জেলে ছিলেন, কিন্তু তৃণমূল তার ভোট ধরে রেখেছে, ভোট বাড়িয়েছে। এই ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত হিন্দু মুসলমান হিন্দু মুসলমান করা ছাড়া বিজেপি আর করেছে টা কী? হ্যাঁ, একটা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা তৈরি হয়, কিন্তু তার সঙ্গেই কি জুড়বে না এই গ্যাসের দাম বাড়া, এই এসআইআর-এর হয়রানি? এখানে তৃণমূল বিজেপিকে একটা জায়গাতেও ছেড়ে রাখেনি, সে প্রচার, ডিজিটাল প্রেজেন্স, পাল্লা দিয়ে সেসব চলেছে।

আরও পড়ুন: Fourth Pillar | মোদিজির ঘন ঘন মুখোশ বদলে বাংলা দখলের চেষ্টা সফল হবে?

হিসেব দেখুন, এই সময়ের মধ্যে ২১টা উপনির্বাচন হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে, ২০টাতে তৃণমূল জিতেছে, ১ টাতে জিতেছিল কংগ্রেস, সেটাও আবার ফিরে এসেছে তৃণমূলের ঘরে। ২০২১-এর তৃণমূল আর বিজেপির ভোটের ফারাক কত? তৃণমূল ৪৮.৫ শতাংশ, বিজেপি ৩৮.৪ শতাংশ, মানে ফারাক ১০ শতাংশ। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন যেখানে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রশ্ন, যে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি অন্যরাজ্যে ৪-৫-৬ শতাংশ বেশি ভোট পায়, সেখানে বিজেপি পেল ৩৯ শতাংশ আর তৃণমূল ৪৬ শতাংশ, ফারাক ৭ শতাংশের। মধ্যিখানে সিপিএম-কংগ্রেস জোটের ভোট ১১ শতাংশ। হ্যাঁ। এটাও বিজেপির এক বড় সমস্যা, সমস্যা কারণ অন্যান্য রাজ্যে এই মধ্যিখানের ভোটটা তাঁরা পেয়ে গেলেই হিসেব বদলে যায়, কিন্তু এখানে সমস্যা হল কংগ্রেস–সিপিএম আলাদা লড়লেও তাদের ভোট কমছে তো নয়ই, উলটে তা বাড়ছে। মানে বামেদের যে ভোট বিজেপিতে গিয়েছিল তা ফিরছে, উত্তর থেকে দক্ষিণে সেই ভোট ফিরছে বামেদের। কাজেই তৃণমূল কেবল তাদের ভোট ধরে রাখলেই বিজেপি কিন্তু ৭৭ থেকেও নেমে যাবে। কি

কিন্তু তৃণমূল কি তার ভোট ধরে রাখতে পারবে? সেখানে দুটো ফ্যাক্টরের হিসেব আমরা করেছি- (১) ভাল রকমের অ্যান্টি-ইনকমব্যান্সি আছে, কিন্তু সেটা তৃণমূলের বেশি থাকলে, বিজেপিরও আছে, প্রধানমন্ত্রী এসে বলছেন ধরে নিন ২৯৪টাতেই মোদিজিই প্রার্থী, তাহলে নির্বাচনের আগে রান্নাঘরে ৬০ টাকা খরচ বেড়ে যাওয়া কি প্রভাব ফেলবে না? কিন্তু অবশ্যই রাজ্য সরকারের অ্যান্টি-ইনকমব্যান্সি অনেক অনেক বেশি আছে। (২) এসআইআর-এর বিপুল হয়রানির ফলে মানুষের এক রাগ গিয়ে আছড়ে পড়বে ইভিএম-এ। আড়াই তিন কোটি মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, গুচ্ছ গুচ্ছ জেরক্স করতে হয়েছে, সারা দিন জেলা বা মহকুমা সদরে বৃদ্ধ বাবা-মা’কে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তার পরেও কম করে ৩৫-৩৭ লক্ষ মানুষের, বৈধ ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে, এর আক্রোশ ইভিএম-এ পড়বে বৈকি, সেটা সংখ্যালঘু মুসলমান বেল্টে পড়বে, সেটা মতুয়া-রাজবংশী বেল্টেও পড়বে। আর দু’টো বড় ফ্যাক্টর যা আমরা হিসেবের মধ্যে রেখেছি তা হল গত ৫ বছর ধরে ওই এক আরজি কর আন্দোলনকে বাদ দিলে সেভাবে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে কোনও আন্দোলন হয়নি, আর সেই আন্দোলনের রাশ ছিল বামপন্থীদের হাতে, কাজেই মূল প্রতিদ্বন্দী বিজেপি সেখান থেকে বিরাট কোনও লাভ পাবে না। আর দু’নম্বর হল তৃণমূলের আন প্যারালাল সংগঠনের কাছে বিজেপির সংগঠন নেহাতই বামন আকারের। এবং শেষ কথাটা হল এখনও বাংলার মানুষের কাছে মমতার কোনও বিকল্প নেই, সেখানে শুভেন্দু অধিকারী একটা নাম মাত্র।

হ্যাঁ, এই সবকটা ফ্যাক্টরকে মাথায় রেখে ২০০৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিধানসভা লোকসভা নির্বাচন, মধ্যে পঞ্চায়েত, মিউনিসিপালিটি, কর্পোরেশন নির্বাচন, বাই-ইলেকশনের নির্বাচনের তথ্যগুলোকে সামনে রেখে তার সঙ্গে আমাদের সমস্ত জেলায় মহকুমায়, শহরে যে রিপোর্টারেরা আছেন, বন্ধু সাংবাদিকরা আছেন, তাঁদের ইনপুট নিয়েই আমরা বোঝার চেষ্টা করেছি, এবারে হাওয়া কোন দিকে? না, আমাদের এলোমেলো লাগেনি। এবারেও তৃণমূল তাদের ভোট ৪৫ শতাংশের উপরেই রাখবে, এবারেও বিজেপি কোনওভাবেই ৩৫-৩৬ শতাংশের বেশি ভোট পাবে না, কিন্তু কংগ্রেসের ভোট সামান্য বাড়লেও, বামেদের ভোট তিন সাড়ে তিন শতাংশ বাড়বে, উত্তর থেকে দক্ষিণে বাড়বে। আইএসএফ-এর ভোটও ১ শতাংশের বেশি বাড়বে। হুমায়ুন কবীরের দল বা উনি নিজে কোনও ফ্যাক্টরও হয়ে উঠছেন না, ওনার আসনটা ধরে রাখাও বেশ কঠিন। হ্যাঁ, এবারে আসুন মোট আসনের কথায়, তৃণমূল ২০০ থেকে ২২০-তে থাকবে, কংগ্রেস ৪-৫ টা পাবে, সিপিএম ১–২টে আসন পাবে, সিপিএম লিখলাম কারণ অন্য বাম শরিকদের কোনও আসন আমাদের নজরে পড়েনি। ৭০–৮০টা আসন পেতে পারে বিজেপি। কিন্তু এর মধ্যে ইন্টারেস্টিং হল বিজেপি আর তৃণমূল দুই দলেরই জেতা আসন হাতবদল হবে, হ্যাঁ, আমাদের নজরে এই হাতবদলের হিসেব এসেছে, কমসম করে ১৫-১৮টা আসন এধারে ওধারে যাবে, মানে জেতা আসন হেরে, হারা আসন জিতে যাবে। দুই, এবারে অন্য সমস্ত ভোটের মতই ইন্দ্রপতন হতেই পারে, তার কারণ কিন্তু লোক্যাল আন্টি-ইনকমব্যান্সি। তিন- নন্দীগ্রাম আমাদের হিসেবে বিজেপির হাতেই থাকছে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনায়াসে জিতছেন। এবারে আমরা তৃণমূলের ভোট যে কমবে না বলছি এটা ধারণা নয়, এটা তথ্য, বিজেপির ভোট সামান্য কমবে এটাও ঠিক আছে। আর বামেদের ভোট বাড়ছে এটাও তথ্য, গত লোকসভা, গ্রাম পঞ্চায়েতের হিসেব সেটাই বলছে। কিন্তু এখানেই একটা ধারণা আছে, সেটা হল বামেদের সেই ভোট আসবে কোথ্বেকে? এইখানে ধারণা ছাড়া কোনও গতিই নেই, আমাদের ধারনা সেটা আসবে মমতা বিরোধী শিবির বিজেপির থেকেই, তা যদি আসে তা হলে আমাদের হিসেবের উপরের সংখ্যাগুলো মিলবে, মানে তৃণমূল ২২০-তে চলে যাবে, আর যদি সেই ভোট তৃণমূলের কাছ থেকে আসে তাহলে তৃণমূল ২০০-এর তলাতেই থাকবে, কিন্তু কোনওভাবেই তৃণমূল ১৯০-র তলাতে যাবে না। হ্যাঁ, এটুকু ভুলের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে যা আমরা রেজাল্টের পরেই বুঝতে পারব। তবে এই নির্বাচন বহু কারণেই মানুষের মাথায় থেকে যাবে, যে এনার্জি, যে ক্ষমতার ব্যবহার, যে অর্থ ব্যয় করেছে বিজেপি, তারা ক্যামপেইন কে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে, তার পরে এই ৭০ থেকে ৮০-তে আটকে যাওয়া বঙ্গ বিজেপির সংগঠন থেকে কাঠামো সবকিছুকেই নড়বড়ে করে দেবে, প্রাথমিক হতাশা থাকবেই বামেদের ইয়ং ব্রিগেডের মধ্যে, কারণ তাঁরা দেখবেন কমসম করে ২০টা আসন তাঁদের জন্যই তৃণমূল জিতে গিয়েছে, কিন্তু সেই প্রাথমিক হতাশা কাটাতে পারলে বামেদের আবার সামনে আসাটা সময়ের অপেক্ষা। এবং বলেই দিচ্ছি আগামী বিধানসভাতে লালেদের সংখ্যা শূন্য হবে না, স্বাধীনতার আগে বঙ্গ বিধানসভায় তিনজন ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির তরফে জ্যোতি বসু, রূপনারায়ণ রায়, রতন লাল ব্রাহ্মণ। সেরকম এক বিধানসভা আমরা দেখব ৪ তারিখের পরে।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

শেষ মুহূর্তে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমিয়ে দিল কমিশন, সরব তৃণমূল  

ওয়েবডেস্ক-  ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Assembly Election)  একদম শেষ অঙ্কে দাঁড়িয়ে আছে রাজ্য রাজনীতি। কোন সরকার আসবে,...

More Articles Like This