ওয়েবডেস্ক- দ্বিতীয় দফার (Second Phase) ভোটে অশান্তি আশঙ্কা ছিল। তবে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্রিয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) । তাও এই কিছুকে ছাপিয়ে বুথ জ্যাম, ভাঙড়ে অশান্তি, ভবানীপুরে ‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। ভবানীপুরে (Bhawanipur) এদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা যায় প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে। ফলে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর ঘিরে উত্তেজনা।
অপরদিকে সকাল থেকেই অ্যাক্টিভ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । ভোটের দিন দিকে তাঁকে বরাবরই অন্য চেহারায় দেখা যায়, এবারেও ব্যক্তিক্রম নয়। সকাল থেকেই বুথ পরিদর্শনে বের হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। চেতলায় ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির সামনেও থামেন মমতা।
আগের রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যে হুমকির অভিযোগ তুলেছিলেন ফিরহাদ, তা নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল নেত্রী। এরপর ৮২ নম্বর বুথে গিয়ে ভোটপর্বের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন তিনি, যদিও বুথের ভিতরে প্রবেশ করেননি, বাইরে থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন।
চেতলা, চক্রবেড়িয়ার বুথে বুথে ঘুরছেন। চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে বেশ কিছুক্ষণ বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।”
আরও পড়ুন- শুভেন্দুকে চোর-চোর স্লোগান, জয় হিন্দ ভবনের বাইরে লাঠিচার্জ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর
এর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “রাতে আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এভাবে ভোট হয় না। এটা গণতন্ত্রের উৎসব, কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি গণতন্ত্রকে হত্যা করছে।” তিনি আরও জানান, তৃণমূল কর্মীরা কোনওভাবেই এলাকা ছাড়বেন না।
নিজের ভূমিকাও স্পষ্ট করে দেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, “আমি এখানে প্রার্থী হিসেবে বুথে বুথে ঘুরছি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়।” একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে গভীর রাতে পৌঁছে তল্লাশি চালানো হয়, এমনকি তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত থেকে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় পুলিশ, বাহিনীর তল্লাশির খবর পাওয়া গিয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটে ক্ষোভ কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। চক্রবেড়িয়ায় তাঁরই দলীয় কার্যালয়ের কাছের বুথটিতে গিয়ে কিছুক্ষণ বসেন মমতা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়ি গিয়েও খোঁজখবর নিয়েছেন। পরে তিনি অসীম বসুর কার্যালয়ে গিয়ে বসেন। তার পাশেই বসেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকলাপে বিরক্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
তৃণমূলনেত্রী বলেন, ”কাল রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাবাইয়ের (অসীম বসু) বাড়িতে যায় বাহিনী। ওর স্ত্রী বাচ্চাটাকে নিয়ে বাড়িতে একা ছিল, ও দলের কাজে বাইরে ছিল। সেটা ওর স্ত্রী জানায়। তারপরেও ওরা কোনও কথা শোনেনি। বাড়ির ভিতর ঢুকে হুমকি দিয়েছে, বাবাই যেন ভোটের দিন কোনও কাজ না করে। মোবাইলও কেড়ে নেয়। এভাবে কি ভোট হয়? এখানে গুন্ডারাজ চলছে? একটা কথা মনে রাখবেন, আমাদের কর্মীরা মৃত্যুবরণ করবে, তবু কারও কাছে মাথানত করবে না।” নিজের মোবাইলে একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, দেখুন আমাদের কর্মীদের কিভাবে মারা হয়েছে। এটা কেমন গুন্ডামি চলছে? এভাবে ভোট হয় না। এটা গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।‘
