29 C
Kolkata

ইরানকে বাঁচিয়ে রেখেছে ‘মোজাইক ডিফেন্স’! এর নেপথ্যে কার মাথা রয়েছে জানেন?

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: বর্তমানে ইরানের (Iran) অবস্থা অনেককেই ২০০৩ সালের ইরাককে মনে করিয়ে দিচ্ছে। মার্কিন সেনার মাত্র ২৬ দিনের সামরিক অভিযানে সেখানে কার্যত ধসে পড়েছিল সাদ্দাম হোসেনের সাম্রাজ্য। তবে সেই ফলাফল থেকে ইরান এখনও সহস্র যোজন দূরে। যৌথভাবে হামলা চালিয়ে ইজরায়েল (Israel) ও আমেরিকা (USA) ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতাকে নিকেশ করলেও দেশটির সামরিক কাঠামো বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনও যেন লোহার মতো দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সটান। এর নেপথ্যে কে? অনেকের মনে করছেন, যুদ্ধের মাঝেও ইরানের দৃঢ়তার পিছনে রয়েছেন সে দেশের সেনাকর্তা মহম্মদ আলি জাফারি (Mohammad Ali Jafari)।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনও প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারছে মূলত জাফারির তৈরি ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ (Mosaic Defense) ধারণার কারণে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানি সেনাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতবাদের মূল ধারণা হল—যুদ্ধ পরিচালনা কখনওই একক নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল হবে না। বরং সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। ফলে কোনও শীর্ষ নেতা নিহত হলেও অন্য ইউনিটগুলি স্বাধীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।

আরও পড়ুন: মোজতবার ‘দিন গোনা শুরু’? ইরানের শাসন উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

আসলে ২০০৩ সালে ইরাকের যুদ্ধ জাফারির চিন্তাভাবনায় বড় প্রভাব ফেলেছিল। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, সাদ্দাম হোসেনের শাসনব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। ফলে সাদ্দামকে সরানো মাত্রই গোটা প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ইরানের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি করেন, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যুদ্ধ পরিচালনা একাধিক স্তরে ভাগ করে দেওয়া হয়। জাফারির এই ব্যতিক্রমী কৌশলের বাস্তব প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ থামায়নি। বরং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

কিন্তু কে এই মহম্মদ আলি জাফারি? ইরানের কুর্দিস্তান অঞ্চলের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি দ্রুত গুরুত্ব অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি আইআরজিসির স্থলবাহিনীর নেতৃত্বে আসেন। পরে ২০০৫ সালে ইরানের গার্ডস সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রধান হন। সেখানেই তিনি ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ ধারণার উপর কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে তাঁকে আইআরজিসির সর্বাধিনায়ক করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাফারির তৈরি এই প্রতিরক্ষা কৌশলই আজকের সংঘাতে ইরানকে টিকে থাকার শক্তি দিচ্ছে।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

সই জালিয়াতি মামলায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা জেরার পর ভবানী ভবন থেকে বেরলেন অভিষেক

ওয়েব ডেস্ক : বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় (Signature forgery case) সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর ভবানীভবন থেকে বেরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়...

More Articles Like This