25.9 C
New York

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ! ৫০০ ডলার হাতে নিয়ে ৫০ হাজার কিমি পাড়ি! দেখুন এই ভ্রমণপাগলের গল্প

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: ছোট থেকেই চোখে ছিল বিশ্বভ্রমণের (World Tour) স্বপ্ন, হাতে পুঁজি ছিল যৎসামান্য, কিন্তু অদম্য জেদ থাকলে যে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়, তা বারেবারে প্রমাণ করেছেন এই ভদ্রলোক। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে টানা ২৭ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে, দেশ-বিদেশে নানা বিপদকে দুঃসাহসের সঙ্গে জয় করে অবশেষে ঘরে ফিরছেন ঘরের ছেলে। তাঁর আশায় পথ চেয়ে বসে পরিবার।

এই গল্পটা ব্রিটেনের (Britain) কার্ল বুশবির (Karl Bushby)। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, গোটা পৃথিবী তিনি পায়ে হেঁটে ঘুরবেন, যা এককথায় অবিশ্বাস্য। মনে অদম্য সাহস নিয়ে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিলেন কার্ল । এই নজিরবিহীন অভিযানের নাম রাখেন ‘গোলিয়াথ এক্সপেডিশন’ (Goliath Expedition)। শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার একেবারে প্রান্তিক অঞ্চল থেকে। হাতে ছিল মাত্র ৫০০ ডলার। শর্ত একটাই, পুরো পথ হাঁটতে হবে, কোনও রকম যানবাহনের সাহায্য নেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন: লাহোরে গুলিবর্ষণ! লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হামজার উপর হামলা

শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জ ছিল নিত্যসঙ্গী। কখনও তাঁবু খাটিয়ে, কখনও অচেনা মানুষের আতিথ্যে রাত কাটিয়েছেন বুশবি। দুই বছরের মধ্যেই তিনি পেরিয়ে যান গোটা দক্ষিণ আমেরিকা। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিল ড্যারিয়েন গ্যাপে। দুষ্কৃতী ও বিপজ্জনক জঙ্গলে ভরা এই অঞ্চল পেরোতে তাঁর সময় লাগে ৫০ দিন, যেখানে পদে পদে ছিল প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে। এরপর ছয় বছর ধরে উত্তর আমেরিকা অতিক্রম করে পৌঁছন বেরিং প্রণালীতে। বরফে ঢাকা সেই প্রণালী পেরিয়ে ২০০৬ সালে তিনি পৌঁছন রাশিয়ায়। তবে সেখানেই অপেক্ষা করছিল নতুন বিপদ—রাজনৈতিক জটিলতা। অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পার করার অভিযোগে তাঁকে ৫৭ দিন জেলেও কাটাতে হয়।

এরপরও থামেননি কার্ল। ভিসা সমস্যার কারণে তাঁকে আবার আমেরিকায় ফিরে গিয়ে লড়াই করতে হয়। অবশেষে অনুমতি মিললেও সাইবেরিয়া পেরোতে তাঁর লেগে যায় দীর্ঘ ১১ বছর। আর্থিক অনটন থেকে শুরু করে কোভিড-১৯—সব প্রতিকূলতাকেই সঙ্গী করে এগিয়ে চলেন তিনি। ২০২৪ সালে তিনি পৌঁছন কাস্পিয়ান সাগরে। এবার নতুন চমক—হেঁটে নয়, সাঁতরে পাড়ি! ৩১ দিন ধরে সাঁতার কেটে কাজাখস্তান থেকে আজারবাইজানে পৌঁছন, মাঝে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করেন একটি ছোট নৌকা। এরপর ককেসাস অঞ্চল ও তুরস্ক পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেন তিনি। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ যখন তিনি ইউরোপে পৌঁছন, তখন আর গন্তব্য খুব দূরে নয়। আর কয়েক মাসের অপেক্ষা—তারপরই প্রায় তিন দশকের লড়াইয়ের অবসান।

১৯৬৯ সালে ইংল্যান্ডের হুল শহরে জন্ম নেওয়া কার্ল বুশবির জীবনের মোড় ঘুরেছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর। সহকর্মীদের মৃত্যু তাঁকে বুঝিয়েছিল জীবনের অনিশ্চয়তা। সেই উপলব্ধিই তাঁকে ঘর ছেড়ে রোমাঞ্চের পথে নিয়ে যায়। আজ, প্রায় ২৫টি দেশ পেরিয়ে, অসংখ্য বিপদ জয় করে, নিজের শহরের মাটিতে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই অভিযাত্রী।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

Aajke | নববর্ষ থেকেই বিজেপিকে জেতাতে মাঠে রাজ্যপাল

সত্যি বলছি, মাসখানেক এসেছেন ‘লাটসাহেব’, নয়া রাজ্যপাল, কিন্তু এখনও কেন বিজেপির হয়ে ব্যাট ধরছেন না, এই নিয়ে একটা লেখা...

More Articles Like This