ওয়েব ডেস্ক: বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘন্ট প্রকাশ পাওয়ার পর প্রচারে ঝড় তুলেছে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই। ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঝোড়ো প্রচারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ পাণ্ডবেশ্বরে (Mamata Election Campaign Pandaveswar)জনসভা থেকে মোদিকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই সঙ্গে দিল্লির সরকারের এক্সপাইরি ডেটও জানিয়ে দিলেন মমতা। বাংলায় যে বিজেপি সরকার গড়তে পারবে না, চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে অত্মবিশ্বাসী মমতা। মমতা তৃণমূলের নির্বাচনী স্লোগান, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। মমতা বলেন, “যতই করো হামলা, আবার তৃণমূলই জিতবে বাংলা।” একই সঙ্গে বিজেপিকে তোপ দেগে তাঁর সংযোজন, “কিচ্ছু করার নেই, তোমরা বসে উকুন বাছো।” এদিন সভা থেকে রামনবমীতে অশান্তি এড়ানোর বার্তা দেন তৃণমূলনেত্রী। মমতা বলেন, ‘রামনবমীর মিছিল আমরা সবাই করি। মিছিলে যেন কোনও অশান্তি না হয়।
বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এসআইআর থেকে জ্বালানি সমস্যা, সব ইস্যুতে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন বক্তব্যের শুরুতেই মমতা বলেন, ‘লড়াইটা কৌরবদের সঙ্গে পাণ্ডবদের। আমরা পাণ্ডব। বিজেপি কৌরব।’ পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে জ্বালানি সমস্যা নিয়ে বিজেপিকে একহাত নেন মমতা। কেন্দ্রকে তোপ দেগে মমতা বললেন, ‘এরা বলে ঝুট, করে লুট। মমতা বলেন, ‘লকডাউন করবে কি না ভাবছে। জানি না। করলে করবে। লকডাউন করে মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখবে… জেনে রাখুন, কোভিডের সময়ও লকডাউন ছিল। আমরা ২১ সালে যদি কোভিডের মধ্যে লড়াই করতে পারি, তাহলে যে কোনও পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করার জন্য রাজি রয়েছি।’ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে তেল এবং গ্যাসের সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে লকডাউন হতে পারে বলে মনে করছেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, দিল্লিতে কংগ্রেসের আমলে গ্যাসের দাম ৪০০ টাকা ছিল। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই গ্যাস মানুষকে ১১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রেলের টিকিট, পেট্রোলের দামের মতো। আর বড় গ্যাস ২১০০ বলেছে।’পেট্রোলের দাম বাড়িয়েছে, আবার সতর্ক করেছে।তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘কাল দেখলাম গ্যাস বুকিংয়ের সময় কমিয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। জানি না সত্যি কি না, আমি ওদের বিশ্বাস করি না। ২৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না! গ্যাস ফুরিয়ে গেলে মানুষ কী করবে?’ সেইসঙ্গে বিজেপি সরকার অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে দিল্লি থেকে চলে যাবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন মমতা।
আরও পড়ুন:চলছে চলবে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে পাণ্ডবেশ্বর থেকে বড় ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
মমতা আরও বলেন, বিজেপির পার্টি অফিস থেকে পুলিশ প্রশাসনকে বদলি করা ঠিক হচ্ছে। মা বোনেদের বলছি, নির্বাচনের দিন আর গণনার দিন কেউ জোর খাটালে আপনারা রুখে দাঁড়ান। যাঁরা বিজেপির হয়ে দালালি করছে তাঁদের ৪ তারিখে দেখব কোথায় যায়।’রোজ রোজ মিথ্যা কথা বলছে। সব ঝুট। হাঁদা-ভোদা দুই ভাই, চক্রান্ত করে তাই। যতই করো হামলা, তৃণমূল জিতবে বাংলা। নির্বাচনের পরে পিঠে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না।
বিজেপি ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। তাই এসআইআর করে মানুষের নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে অধিকার বাদ দিয়ে দিচ্ছে। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি জানান, মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে। অধিকার বাদ দিচ্ছে। এর মধ্যে হিন্দু রয়েছে। মুসলিম আছে। নমশুদ্র রয়েছে। মমতার কথায়, ‘এর আগে বিজেপি বলেছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেবে। ৫৮ লাখ প্রথম দফায় বাদ দিয়েছে। তারপর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে ৬০ লক্ষের নাম ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই হিসেব বিজেপির পার্টি অফিস থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।’ শুনছি ৪০ শতাংশ বাদ দিয়েছি। ৬০ শতাংশ তুলে থাকলেও আমাদের ক্রেডিট। বাদবাকি লিস্ট চাইছি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা যাতে ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারে, সেটা দল দেখবে।’ তিনি জানান, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের দরখাস্ত নেবে দলের প্রতিনিধিরা। আইনজ্ঞ দেওয়া হবে। বিনাপয়সায় ভোটারদের জন্য তাঁরা লড়বে।
পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘আমি ওদের মতো নগ্ন ভাষায় কথা বলি না। আমি কথা বলি মা মাটি মানুষের ভাষায়।’ এ দিন মমতা বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন চলবে। বিহারের মতো করব না।’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, যুবসাথী কিছু বাকি রয়েছে। হয়ে যাবে। দুয়ারে স্বাস্থ্য করে দেওয়া হবে। মানুষ বাড়ির সামনে পরিষেবা পাবে।তিনি দাবি করেন, পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূল সরকার অনেক কাজ করেছে। আসানসোলকে নতুন জেলা করা হয়েছে। আসানসোল মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। আসানসোল নজরুল ইসলাম ইউনির্ভাসিটি করা হয়েছে। আসানসোল অন্ডাল এয়ারপোর্ট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘খাদান থেকে এত কষ্ট করে কয়লা তোলেন। মুনাফা অন্য কেউ নিয়ে যায়। আমরা এই সমস্যা সমাধানের কাজ করছি।’

