ওয়েব ডেস্ক : তিলজলার (Tiljala) গোলাম জিলানি খান রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ১২ মে-র ওই মর্মান্তিক আগুনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২ জন। এই ঘটনার পর দমকল দফতরের (Fire Department) তরফে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হল। সাসপেন্ড করা হল প্রগতি ময়দান ফায়ার স্টেশনের ওসি তথা স্টেশন অফিসার গৌতম দাস-কে।
দমকল সূত্রে খবর, নজরদারি, নিয়মিত পরিদর্শন এবং অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দমকল দফতর (Fire Department) জানিয়েছে, এক মাসের মধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। সাসপেনশন চলাকালীন গৌতম দাস-কে ফায়ার হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন দমকলের ডিজি। তিলজলার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার।
আরও খবর : দুর্নীতিতে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে সিবিআইকে ছাড়পত্র, নিতে হবে না রাজ্যের অনুমতি: শুভেন্দু
এদিকে এই ঘটনায় বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছিলেন, ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। আগুন থেকে সুরক্ষার নিরাপত্তাও ছিল না। অবৈধভাবে এই কারখানা চলছিল। সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ করেছে। কারখানার মালিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া বলেছেন, কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, ইকবালপুর এলাকায় যে সব অবৈধ কারখানা রয়েছে সেগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। সিইএসসি-কে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু আরও বলেছেন, একদিনের মধ্যে অবৈধ্য পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন যাতে কেটে দেওয়া হয়, পুরসভাকে তেমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা বেআইনি কাজ করছেন, তাঁদেরকে শুধরে যাওয়ার কথা বলেছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।
অগ্নিকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার শুরু হয় তপসিয়ার সেই কারখানা ভাঙার কাজ। ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চামড়া কারখানার মালিক জাফর নিশারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দেখুন অন্য খবর :
